অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগির অভিযান এনবিআরের

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পুরান ঢাকার অবৈধ ব্যবসায়ীদের ধরতে মাঠে শিগগিরই অভিযান চালাবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ জন্য এনবিআরের একজন সিনিয়র সদস্যের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব এলাকায় যারা অবৈধ গুদাম ও কারখানা করে ব্যবসা চালাচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।

সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার গুদামের মালিক কারা, তাদের ব্যবসার ধরন কী, গুদামে কী ধরনের পণ্য মজুদ রাখা হয়, গুদামে রাখা রাসায়নিক পণ্য কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে- এসব বিষয়ে বিশদ খোঁজ-খবর নিচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ওইসব এলাকার অবৈধ ব্যবসায়ীদের ধরতে এ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। গত সপ্তাহ থেকে এ তৎপরতা শুরু করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭১ জন মারা গেছেন। ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডির নয় বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায়।

এদিকে গত দুই বছরে দেশে কী পরিমাণ কেমিক্যাল আমদানি হয়েছে, কারা এনেছে- এসব তথ্য জানতে সম্প্রতি এনবিআর থেকে দেশের সব কাস্টম হাউসকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এনবিআর সূত্র জানায়, শর্ত প্রতিপালন করে কেমিক্যাল আমদানি হচ্ছে কি-না তা যাচাই করে, প্রযোজ্য শুল্ক্ককর নিরূপণ করে বন্দরে খালাসের অনুমতি দেয় কাস্টমস। এর বাইরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। এনবিআরের শুল্ক্কনীতি বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সাধারণত কেমিক্যাল আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা হয় না। কারণ, এসব পণ্যে শুল্ক্কহার তুলনামূলকভাবে কম। তার পরও এ ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা ঘোষণা হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এনবিআরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চকবাজার, নিমতলীসহ পুরান ঢাকার যেসব জায়গায় গুদাম ও কারখানা আছে সেসব স্থানে যাচ্ছেন। এসব গুদামের মালিকের নাম, ঠিকানা, লাইসেন্স, গুদামের ধারণক্ষমতা, পণ্য মুজদের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এ কাজের জন্য এনবিআরের তিনটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলো হচ্ছে- শুল্ক্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট অফিস এবং বন্ড কমিশনারেট অফিস। তথ্য সংগ্রহের জন্য উল্লিখিত প্রত্যেক অফিসের দু’জন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সমন্বয়ে মোট তিনটি টিম গঠন করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথভাবে এসব টিম তথ্য সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে কারা বৈধ ব্যবসা করছে আর কারা অবৈধ তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অবৈধ ব্যবসায়ীদের তালিকা টাস্কফোর্সের প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাস্কফোর্সের এক সদস্য সমকালকে বলেন, আগে নিশ্চিত হতে চাই কাদের অবৈধ গুদাম ও কারখানা আছে। এ জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। অবৈধ ব্যবসায়ীদের তালিকা হাতে পাওয়ার পরই অভিযান চালানো হবে। প্রকৃত অপরাধীদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুল্ক্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় অসংখ্য গুদাম ও কারখানা রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপ শেষে অবৈধ গুদাম ও কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানো হবে।

এনবিআর সূত্র বলেছে, প্রধানত দুটি দেখার বিষয় তাদের। প্রথমত, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কারা পণ্য আমদানি করছে, তাদের খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে পণ্য এনে খোলাবাজারে যারা বিক্রি করছে তাদের ধরা।