বিশ্বে মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে : সরকারি দল

নিউজ ডেস্ক: সংসদ ভবন, ৫ মার্চ, ২০১৯ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর এ আলোচনা শুরু হয়। ওই দিন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আ. স. ম ফিরোজ তা সমর্থন করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২১তম দিনে হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সরকারি দলের মনোরঞ্জন শীল গোপাল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, কাজী নাবিল আহমেদ, সাইমুম সরওয়ার কমল, শফিকুল আজম খান, আনোয়ার হোসেন খান, আব্দুল মমিন মন্ডল, তাহমিনা বেগম, বেগম শামসুন নাহার, বেগম অপরাজিতা হক, বেগম সৈয়দা আলাউদ্দিন, কাজী কানিজ সুলতানা, বেগম রতœা আহমেদ, বেগম শামীমা আক্তার খানম, জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী ও ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আজ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, এখন মানুষ আর না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় অকালে মৃত্যুবরণ করছে না। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী ১শ’ বছরকে সামনে রেখে দেশের উন্নয়ন করতে ইতোমধ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত দশ বছরের সমুন্নয়ন নিশ্চিত করায় এখন গ্রাম-শহরের ব্যবধান অনেক কমে গেছে। অধিকাংশ গ্রামেই এখন শহরের সুবিধা পাচ্ছেন গ্রামবাসী। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামকে শহরে পরিণত করতে এখন কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রামান্য দলিল। তিনি তাঁর জ্ঞানগর্ব ভাষণে বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা তুলে ধরেছেন।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনের বিচার করেছে। কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। যারা বিদেশে পলাতক রয়েছে, ওইসব সাজাপ্রাপ্ত খুনীদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই সরকারই যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের বিচারের কাজ করছে।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য এলাকায় শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সমুদ্রসীমা জয়, ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে।
তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
বিরোধী দলের সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় পার্টি সরকারের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
তিনি বিএনপিকে নিয়ে সংসদে আলোচনা করে দেশের মানুষের করের টাকা অপচয় না করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে জাতির পিতা কন্যার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অভাবনীয়। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রত্যাহার করলেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই সেতু দিয়ে গাড়ি চলবে। সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বড় বড় মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে।
আবু হোসেন বাবলা বলেন, সমালোচনায় বিরোধী দলের একমাত্র কাজ নয়। আর অযথা সরকারের সমালোচনা করে আমরা দেশের মানুষের হাসির পাত্র হতে চাই না। জাতীয় পার্টি সরকারের তখনই সমালোচনা করতে পারবে, যখন দেখবে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রী এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি বিশ্বনেত্রী হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছেন।