চকবাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের বৃষ্টি ও রোহানসহ ১১ জনের লাশ শনাক্ত

নিউজ ডেস্ক: পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ছাত্রী বৃষ্টি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রোহানের লাশ রয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সা‌ড়ে ১১টার দিকে পু‌লি‌শের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সংবাদ সম্মেলন ক‌রে ১১ লাশ শনা‌ক্তের খবর জানায়। লাশগুলো ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ মর্গ থে‌কে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা (বৃষ্টি) ছিল গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের আর তানজিল হাসান খান রোহান ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় ৬৭ প্রাণ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও চারজন। এর মধ্যে ৫১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। একই সঙ্গে সেদিনই নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির একটি বিশেষজ্ঞ দল ডিএনএ নমুনা (রক্ত, টিস্যু, হাড় ও বাক্কাল সোয়াব) সংগ্রহের কাজ শুরু করে। ঢাকা মেডিকেল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যৌথভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে মোট ৬৭টি মৃতদেহ থেকে ২৫৬টি ক্রাইমসিন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিচ্ছিন্ন হাতকে পৃথক আলামত হিসেবে গণ্য করে সেটি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলে মোট সংগৃহীত ক্রাইমসিন ডিএনএ নমুনার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৭টি।

কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বুথে স্বজনদের কাছ থেকে রেফারেন্স ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মোট ৪৮টি রেফারেন্স ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক দল। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫টি লাশ থেকে ১১ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় নির্ণয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। দ্বিতীয় ধাপে পাঁচটি অজ্ঞাত মৃতদেহের হাড় থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।