ভারতের কাশ্মীরনীতির কড়া সমালোচনা ওআইসির

নিউজ ডেস্ক:   ভারত সরকারের কাশ্মীরনীতির কড়া সমালোচনা করে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসলামি দেশগুলোর শীর্ষ সংগঠন ওআইসি। গত শনিবার আবুধাবিতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাল্টা নিন্দা জানিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ সংক্রান্ত সবকিছুই ভারতের কাছে কঠোরভাবে অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর আগে পাকিস্তানের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও গত শুক্রবার ওআইসির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, সুষমা স্বরাজের এ সফর ছিল ঐতিহাসিক।

কারণ চিরবৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বৈঠকে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ওআইসি। ভারতের উপস্থিতি মানতে না পেরে এ সম্মেলনে না যাওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। এতেই শেষ নয়, মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সামনে দাঁড়িয়েই সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার জন্য নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানকে তুলাধোনা করেন সুষমা।

১৭ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, যেসব দেশ সন্ত্রাসকে প্রশয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। মানবতাকে রক্ষা করতে চাইলে যেসব দেশ সন্ত্রাসকে আশ্রয় দেয়, অর্থ সাহায্য করে; তাদের এ কাজ করা থেকে সরে আসার বার্তা দেওয়া উচিত। সুষমার যোগ দেওয়ার পর দিনই ওআইসির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কাশ্মীরনীতির কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতীয়দের বলপ্রয়োগের মাত্রা আরও বেড়েছে। চলছে অবৈধ আটক ও গুম।

এ ছাড়া আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানের প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বালাকোটের জঙ্গিঘাঁটিতে ভারতের হামলার তথ্য-উপাত্ত প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আমাদের অবস্থান বরাবরের মতোই স্পষ্ট। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এটি কঠোরভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

একই সঙ্গে বালাকোটে হামলায় সন্ত্রাসীদের হতাহতের কোনো প্রমাণ ভারত প্রকাশ করবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি।