শপথ উনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিছু বলার নেই: মোশাররফ

নিউজ ডেস্ক:   দল ও জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণের ঘোষণাকে তাদের ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তোলা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সেই সিদ্ধান্ত নাকচ করে আগামী ৭ মার্চ শপথ নিতে চান জানিয়ে শনিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন নির্বাচনে জয়ী গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান।

প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আপনারা সকলে জানেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন কোনো নির্বাচন হয় নাই। আমরা এই তথাকথিত ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউ সংসদে যাবেন না। এটাই সিদ্ধান্ত।

“এখন ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের দুইজন সংসদে শপথ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন- এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কেনো বক্তব্য নেই। আমাদের জানা মতে, গণফোরামসহ ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত কিন্তু সংসদে না যাওয়ার পক্ষে, বিএনপির সিদ্ধান্তও যে এই ভোট ডাকাতির সংসদে আমরা যাব না।”

জবাবে মোশাররফ বলেন, “আমরা ‍শুনেছি তারা (দুইজন সদস্য) সংসদে অংশগ্রহণ করবেন। যখন করবেন তখন আমাদের দলের যে বিধি বিধান আছে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে সিদ্ধান্ত আছে সেই প্রেক্ষাপটে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

তারা সংসদে গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে টানাপড়েন সৃষ্টি হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা এতো আগে বলা যাবে না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা একটা বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি। বিএনপি হচ্ছে এই ফ্রন্টের প্রধান ও বৃহত্তম দল।

সকাল ১১টায় জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রধান শামসুজ্জামান দুদু ও সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কৃষক দলের তকদীর হোসেন মো. জসিম, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, নাজিমউদ্দিন, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, মাইনুল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, তাঁতীদলের আবুল কালাম আজাদসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২১ বছর আগে গঠিত কৃষক দলের কমিটি বিলুপ্ত করে ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।