ভুয়া কোম্পানির শেয়ারের নামে ১০০ কোটি টাকার প্রতারণা

নিউজ ডেস্ক:   ভুয়া কোম্পানি খুলে গত ১৫ বছরে ১০০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। জাপান-বাংলাদেশ কোম্পানির নামে চক্রটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নানা কৌশলে প্রতারণা করত। বিশেষ করে ভুয়া কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার করার কথা বলে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিত।

গতকাল কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম, উত্তরা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের ওই ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-ইমরান হাসান, এম আজাদ, হুমায়ুন কবির হালিম, রফিকুল ইসলাম, আল আমিন সরকার রাজ, আবদুল বারী, আবদুল আউয়াল, শাহাদাত হোসেন, মিনহাজ মিঝি, কামরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান, আয়নাল হক, সঞ্জিত সাহা, সামসুল আলম মজুমদার, মেহেদি হাসান হাবিব, ইউসুফ, মো. হিরণ, মামুনুর রশীদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ওরফে আবদুুল জলিল, মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান দিপু, রফিকুল ইসলাম ও মিজান। র‌্যাব জানায়, প্রতারণার জন্য এরা বেশ কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করে।

এর মধ্যে একটি হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তাদের প্রথমে ভুয়া কোম্পানিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়। একপর্যায়ে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করায়। পরে এ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট টাওয়ার বসানোর কথা বলে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। মুফতি মাহমুদ জানান, সুসজ্জিত অফিস ও দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলত চক্রটি। পরে টার্গেট করা লোকদের কৌশলে অফিসে এনে ভুয়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে নিত। তাদের বলা হতো, এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পরে কিছুদিন যাওয়ার পর তাদের কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার করার প্রস্তাব দেয় চক্রটি। প্রস্তাবের ভিকটিমরা রাজি হলে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাইত চক্রের সদস্যরা। পরে নগদ অর্থ হাতে পাওয়ার পর প্রতারকচক্রের সদস্যরা উধাও হয়ে যেত। তিনি আরও জানান, প্রতারকচক্র প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করত। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত। প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি স্তরে তাদের সদস্যরা কাজ করত।

স্তরগুলো হলো-সাব ব্রোকার, ব্রোকার, ম্যানেজার, চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ কোম্পানির প্রধান বস হিসেবে কাজ করত। তারা পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে এ প্রতারণা করে আসছিল। প্রথমত আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন, এনজিও সেজে বিনা খরচে সোলার প্যানেল স্থাপনের চুক্তি, ইট-পাথর রড সিমেন্ট গার্মেন্টস ঠিকাদারি দেওয়ার কথা বলে এবং অফিসে নিয়ে এসে তাস খেলার ফাঁদে ফেলে ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিত। প্রতারকচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুফতি মাহমুদ খান।