ডাকসুতে প্রতি পদের বিপরীতে প্রার্থী ৯ জন

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় প্রতি পদের বিপরীতে লড়বেন ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে রয়েছেন ১৪ জন। সবমিলিয়ে ২৫টি পদের বিপরীতে মোট ২২৯ জন রয়েছেন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায়।

তালিকায় অন্তর্ভূক্ত ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত বামজোটের লিটন নন্দী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পত্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক নুর অন্যতম।

জিএস প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ থেকে গোলাম রাব্বানী, ছাত্রদল থেকে খন্দকার আনিসুর রহমান অনিক, বামজোট থেকে ফয়সাল মাহমুদ, টেকনিক্যাল কারণে বামজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র ফেডারেশন থেকে উম্মে হাবিবা বেনজির, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে রাশেদ খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান।

এর মধ্যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা থেকে উম্মে হাবিবা বেনজির এবং আসিফুর রহমানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। বেনজিরকে বাদ দেওয়া হয়েছিলো ভোটার তালিকায় নাম না আসার জন্য এবং আসিফকে তথ্যের অসম্পূর্ণতার জন্য। তখন ‘সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও’ প্রার্থিতা বাতিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরে ২৮ ফেব্রয়ারি উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি বরাবর পৃথকভাবে লিখিতভাবে আপিল করেন তারা। তাদের আপিল আমলে নিয়ে রোববার প্রকাশিত তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তালিকায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলেছিলাম, ‘প্রশাসন একটি নীল নকশার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে।’ পরে উপাচার্য বরাবর লিখিত আপিল করি। আপিলের পর এখন আমার নাম এসেছে। অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি-জিএস ছাড়া অন্যান্য পদগুলোর মধ্যে এজিএস পদে ১৩, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ৯, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ৯, আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক ১১, সাহিত্য সম্পাদক ৮, সংস্কৃতি সম্পাদক ১২, ক্রীড়া সম্পাদক ১১, ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক ১০, সমাজ সেবা সম্পাদক ১৪ এবং সদস্য পদে ৮৬ জন রয়েছেন চূড়ান্ত তালিকায়।

হল সংসদের মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ২৭, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২৭, জগন্নাথ হলে ২৮, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩২, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২৩, সূর্যসেন হলে ২৬, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩৭, স্যার এ এফ রহমান হলে ৩২, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৮, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৩৯, কবি জসিম উদ্‌দীন হলে ১৮, অমর একুশে হলে ৩৯, বিজয় একাত্তর হলে ৩৬, রোকেয়া হলে ৩০, শামসুন্নাহার হলে ২৪, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ১৮, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ৩৫ এবং কবি সুফিয়া কামার হলে ২৪ জনসহ মোট ৫২৩ জনের নাম চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম এসেছে।

এদিকে হল সংসদের বিভিন্ন পদে একের অধিক প্রার্থী মনোনয়ন না নেওয়া, কিছু বাতিল হওয়া এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বেশকিছু প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৮টি হল মিলিয়ে এ সংখ্যা দাড়ায় ৬০ জন।

ডাকসুর ভোটার ৪৩ হাজার ১৭৩: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩ হাজার ১৭৩ জন।

এর মধ্যে সলিমুলতাহ মুসলিম হলে ১ হাজার ৮০১, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২ হাজার ৫৩৮, জগন্নাথ হলে ২ হাজার ৪৪৩, ফজলুল হক মুসলিম হলে ২ হাজার ৭০, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২ হাজার ২৫৫, সূর্যসেন হলে ২ হাজার ৩১, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ১ হাজার ৯৮২, স্যার এ এফ রহমান হলে ১ হাজার ৮৩১, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১ হাজার ৭৯৬, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ২ হাজার ২৪৭, কবি জসিম উদ্‌দীন হলে ১ হাজার ৬২৮, অমর একুশে হলে ১ হাজার ৩৪০, বিজয় একাত্তর হলে ৩ হাজার ১৪৭, রোকেয়া হলে ৪ হাজার ৪৫৩, শামসুন্নাহার হলে ৩ হাজার ৭৩৭, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ২ হাজার ২৪৪, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ১ হাজার ৯২০ এবং কবি সুফিয়া কামার হলে ৩ হাজার ৭১০ জন।