বর্ধিত সময়ে জমে উঠেছে বই মেলা

নিউজ ডেস্ক:   শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টারও কম সময় আগে ঘোষণা এসেছিল বইমেলা আরও দু’দিন বাড়ল। বর্ধিত সময়সীমার মেলার প্রথম দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। সকাল ১১টায় মেলার দ্বার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকালে তেমন ভিড় না থাকলেও, বিকেলের পর গ্রন্থপ্রেমীরা আসতে শুরু করেন মেলা প্রাঙ্গণে। তাদের আগমনে ‘শেষ হয়েও শেষ না হওয়া’ মেলায় নতুন উদ্যমে বিক্রি হয়েছে বই।

সব মিলিয়ে বর্ধিত সময়সীমার প্রথম দিনের মেলা মন্দ যায়নি প্রকাশকদের জন্য। আজ শনিবারও সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপন হবে ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

সকাল ১১টার কিছু আগে থেকেই মেলায় প্রবেশের জন্য জড়ো হন অনেকে। তবে তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মী। শিশুপ্রহর না হলেও সকালে অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুরাই বেশি এসেছিল মেলা প্রাঙ্গণে। তাদের জন্য সিসিমপুর মঞ্চে হাজির হয়েছিল টেলিভিশন অনুষ্ঠান সিসিমপুরের চরিত্র হালুম, টুকটুকি, সিকু আর ইকরি।

গতকাল বিক্রিও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চারুলিপি প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, মানুষ আসলে ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলা হয় বলে জানে। মেলা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে ভালোভাবে প্রচার হওয়ায় মানুষ তা জানতে পেরেছে। মানুষজন মেলায় আসতে পেরেছেন। শুধু ঘুরেফিরে সময় না কাটিয়ে তারা বইও কিনেছেন বলে জানান এ প্রকাশক।

১৯৯৫ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাত দিন বাড়ানো হয়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা। দুই যুগ পর আবারও মেলার সময়সীমা বাড়ানোয় দারুণ খুশি প্রকাশকরা। এ বিষয়ে কথা হচ্ছিল জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদের সঙ্গে। তাদের মেলা দু’দিন বাড়ানোর দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নতুন বই :বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের হিসাব মতে, মেলার বর্ধিত সময়সীমার প্রথম দিনে ৮৬টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গল্প ১৫, উপন্যাস ৭, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ৩১, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ৬, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধ ৬, নাটক ১, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ১, রাজনীতি ১, কম্পিউটার ১, অনুবাদ ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর আরও পাঁচটি নতুন বই।

গতকাল তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়া নতুন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্মলেন্দু গুণের ‘আনন্দ উদ্যান’ ও সেলিনা হোসেনের ‘মেয়রের বাড়ি’ (রাবেয়া বুক হাউস), অধ্যাপক অপু উকিল ও মো. মাকসুদুল ইসলামের ‘স্মরণে ভাস্বর :শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী’ (গ্রাফোসম্যান পাবলিকেশন্স), মাহবুব আজীজের ‘অমীমাংসিত’ ও মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘বারো বছরের গল্প’ (পাঠক সমাবেশ), মুকুল মজুমদারের ‘হৃদয়ে আল মাহমুদ’ (বাবুই)।