ময়মনসিংহে আদালত বর্জন কর্মসূচী প্রত্যাহার আইনজীবীদের, ডিজিটাল আইনে মামলা

ময়মনসিংহ ব্যুরো :
ময়মনসিংহ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্ট্যানোগ্রাফার ‘শান্তা রহমান’ আইনজীবীদের কটাক্ষ করে ‘কালো পোষাকধারী কুকুর’ বলে অভিহিত করার অভিযোগে ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় মামলার এজাহার দেয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা গ্রহণে গরিমসি করে। নিরুপায় হয়ে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবারও জরুরী সভা ডেকে থানায় মামলা দায়ের না করা পর্যন্ত জজ কোর্টে ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেক কোর্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের কর্মসূচী ঘোষণা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে অবশেষে মামলা রুজু হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ায় জজ কোর্টে ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেক কোর্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের কর্মসূচীও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খান জানিয়েছেন। অর্থাৎ রবিবার যথারীতি আদালতের কার্যক্রমে আইনজীবীরা অংশ নেবেন। তারা অবিলম্বে শান্তা রহমানকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওয়ায় না আনা হলে পরবর্তী কর্মসূচী দেয়া হবে আইনজীবী নেতৃবৃন্দরা জানান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহে আদালত চত্বরে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা ব্যবসার ্উদ্দেশ্যে দোকান ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আইনজীবীরা এর প্রতিবাদ জানায়, ফলে দুগ্রুপ মূখোমুখি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে অতিউৎসাহী হয়ে ময়মনসিংহ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্ট্যানোগ্রাফার ‘শান্তা রহমান’ তার ফেজবুকে আইনজীবীদের কটাক্ষ করে দেয়া স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে ‘বিচারের বাহক নামের কালো পোষাকধারী কুকুরদের কিভাবে সাহস হয়?’ আইনজীবীদের কালো পোষাকধারী কুকুর বলে অভিহিত করায় ক্ষুব্ধ হয় উঠে গোটা আইনজীবী সমাজ। ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বদর আমমেদ বাদী হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোতুয়ালী মডেল থানায় ডিজিটাল আইনে একটি মামলার এজাহার প্রদান করার পর অবশেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলাটি গ্রহন করা হয়, মামলা নং ১০৪, তারিখ ২৮/০২/২০১৯ ইং। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) মুশফিকুর রহমানকে।
এ দিকে আইনজীবী ও কর্মচারীদের উপর হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উভয় গ্রুপের। বুধবার আদালতে কর্মচারীরা সকালে আদালতের সকল গেইটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ সভা করে। অপরদিকে একই দিনে সর্বস্তরের আইনজীবীদের পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি এক জুরুরি সাধারণ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার পূর্ণদিবস আদালত বর্জণ করেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার আদালতে স্বাভাবিক কর্মকান্ড না চলায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার বিচার প্রার্থীরা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এসে ফিরে যেতে হয়।
শুক্রবার বিকেলে বার বার সেল ফোনে কল করলেও ইন্সপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) মুশফিকুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার পরবর্তী ফলোআপ সম্পর্কে জানা যায়নি।

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বদর আহমেদ এর পরিচালনায় বুধবার এক জরুরি সাধারণ সভায় অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো হলো: জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গনের সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীদের উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আইনজীবীদেরকে অসন্মাণ করে ফেইজবুকে মানহানিকর লেখা দেয়ায় শান্তা রহমান ও তার সহযোগিীদের গ্রেফতার ও বিচার করাসহ অন্যান্য দাবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান খান, ওয়াজেদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন খান, গিয়াস উদ্দিন, এমদাদুল হক মিল্লাত, বিকাশ রায়, পিযুষ কান্তি সরকার, নূরুল হক, মিজানূর রহমান প্রমূখ।