ট্রাম্প-কিম বৈঠক ব্যর্থ: নিষেধাজ্ঞা বাতিল চান কিম, ট্রাম্পের না

নিউজ ডেস্ক:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বহুল আলোচিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বুধবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের বৈঠকের শেষদিন গতকাল বৃহস্পতিবার কোন সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। কিমের দাবি ছিল এখনই তার দেশের উপর বলবত্ থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় আরো কিছুদিন দেশটিকে নজরে রাখতে এবং নিষেধাজ্ঞা তোলার আগে পরমাণু সংক্রান্ত সব কর্মসূচি বাতিলের নিশ্চয়তা পেতে। শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুতে অচলবস্থার মধ্যেই আলোচনার সমাপ্তি টানেন তারা। ফলে আগের দিন যে হাসিমুখ নিয়ে দুই নেতা নৈশভোজে গিয়েছিলেন, পরের দিন তা হতাশায় ডুবে গেল।

গতকাল ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি ছিল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। তারা চাইছিল যে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া হোক, যা আমরা এখনই করতে পারি না। আলোচিত এই বৈঠক নিয়ে হোয়াইট হাউজের কর্মসূচীর তালিকায় ছিল একটি যৌথ সমঝোতা স্বাক্ষর কর্মসূচী এবং বৈঠক শেষে দুই নেতার মধ্যাহ্নভোজ। কিন্তু দুটোই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এগুলোও বাতিল করা হয়। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় যেকোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আগে সবরকম পারমাণবিক কর্মসূচী বর্জন করুক উত্তর কোরিয়া। কিন্তু কিমের কথায় মনে হয়েছে, এটি উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি কঠিন শর্ত ছিল।

তবে হ্যানয় বৈঠক ব্যর্থ হলেও এটিকে দুই দেশের নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসাবেই দেখা হচ্ছে। ২০১৭ সালে এই দুই নেতা পরস্পরকে উদ্দেশ্য করে হুমকি ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিমকে ‘বেটে রকেট ম্যান’ বলে বিদ্রুপ করেছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ট্রাম্পকে ‘ভীমরতিগ্রস্ত ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন কিম। হ্যানয়ে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছেন, কিম একজন ভদ্রলোক এবং তাদের সম্পর্ক ভীষণ শক্ত। এই সম্মেলনের আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানের বিষয়ে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হলো না।

এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, এবার কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। কিম বলেছেন, হ্যানয়ে তার উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি নিরস্ত্রীকরণে ইচ্ছুক। যদি আমি না চাইতাম, আমি কখনোই এখানে আসতাম না।