আবারও বিশ্বসেরা এনজিওর স্বীকৃতি পেলো ব্র্যাক

নিউজ ডেস্ক:   আরও একবার বিশ্বসেরা এনজিওর স্বীকৃতি পেলো বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। বুধবার বিশ্বের সেরা ৫০০ এনজিওর তালিকা প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভিত্তিক স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’। সেখানে শীর্ষ স্থান দখল করে ব্রাক।

২০১১ সাল থেকে ‘টপ ফাইভ হান্ড্রেড এনজিওস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এই র‌্যাংকিং করে আসছে এনজিও অ্যাডভাইজার। সংঘাত ও দুর্যোগপূর্ণ জায়গায় সাশ্রয়ী ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশ্বনন্দিত সংস্থা ব্র্যাক টানা চতুর্থবার এবং সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই স্বীকৃতি পেল।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্র্যাক আবারও প্রথম স্থান অধিকার করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এজন্য আমাদের সহকর্মী, অংশীদার ও সহযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সকলের ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে’।

এই র‌্যাংকিংয়ের বিবেচ্য বিষয় মূলত ৩টি: ইনোভেশন, ইমপ্যাক্ট এবং সাসটেইনেবিলিটি। অর্থাৎ যেসব সংগঠনের উদ্ভাবনী কর্মসূচি বা উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই এবং সুদূরপ্রাসারী প্রভাব রেখেছে, তাদেরই এই র‌্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসা বলেন, ‘এই মর্যাদা বিশ্বজুড়ে ব্র্যাক পরিবারের সকল সদস্যের অর্জন। আমাদের মূল শক্তি হচ্ছে তারা, যাদের নিয়ে আমরা ৪৭ বছর ধরে কাজ করছি। সেই সঙ্গে স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা আমাদের সহযোগী, এই অর্জন তাদেরও’। তিনি আরও বলেন,‘ অগ্রগতির সুফল যতদিন না প্রতিটি মানুষ সমভাবে ভোগ করবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে’।

পঞ্চমবারের মতো এক নম্বর এনজিও হওয়ার পেছনে যেসব বিষয় কাজ করেছে তার একটি হলো বিশ্বের ৪৩টি দেশে বিভিন্ন মাত্রায় বাস্তবায়িত ব্র্যাকের কর্মসূচি ও উদ্যোগগুলোর সাফল্য। এছাড়াও, এনজিও অ্যাডভাইজার-এর বিবেচনায় ছিলো সরকার এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমে ব্র্যাকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি, বিশেষতঃ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সম্প্রতি উন্নয়ন এবং মানবিক সংস্থাগুলোর যে একটি নতুন জোট গঠিত হয়েছে সেখানে ব্র্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্বজুড়ে দাতা গোষ্ঠীগুলোর সংকোচন নীতি সত্ত্বেও ব্র্যাক যে নিজস্ব আর্থিক মডেলের বিস্তার ঘটিয়েছে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বৈষম্যের শিকার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানেই আমাদের কর্মসূচি পরিচালিত হয়’।

এই তালিকার জন্য আর্থিক উপাত্ত, মানবসম্পদ, প্রশাসন ও বিপণনের তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়ন করা হয়। স্থানীয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেকোনো অলাভজনক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকেই বিবেচনা করে এনজিও অ্যাডভাইজার। ২০১৯ সালের তালিকায় ব্র্যাকের পরে ক্রমানুসারে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন এবং মার্সি কোর। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি