সাম্প্রদায়িকতা উসকে আবারো ক্ষমতা আসতে বিজেপি মরিয়া

 
মোহাঃ খোরশেদ আলম: নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার প্রায় ৫ বছর মেয়াদ শেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন এবং ভারত উপমহাদেশে এর রীতি অনুযায়ী প্রায় ২ মাস চলবে নির্বাচন। ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত তার “সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে বিজেপি” কলামে এসব উক্তি করেছেন- আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে চলছে সংঘর্ষ, খুন, হত্যা, লুট এবং দলবদলের কেনাবেচা। গেরুয়া বাহিনী দ্বিতীয় বার ক্ষমতা আসার জন্য সারাদেশে এক অঘোষিত সন্ত্রাস শুরু করে দিয়েছে। শুধু ভারতের আভ্যন্তরীণ খবরই নয়, আমেরিকার সিনেটেও এরকমই একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে। রির্পোটে বলা হয়েছে- লোকসভা ভোটের আগে ভারতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রবল আশংকা রয়েছে। সে দেশের গুপ্তচর বাহিনীর সর্বেসর্বা ভ্যান কোটস্থ রিপোর্টে তিনি লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবনায় জোর দিলে সাধারণ নির্বাচনের সময় ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসার আশংকা রয়েছে। সমর্থকদের চাঙ্গা করতে হয়তো হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রচারণা চালিয়ে বা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহিত বিভিন্ন অজুহাতে সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করবেন নেতারা। শুধু আমেরিকার সিনেটর এই গোপন রিপোর্ট নয়, চাকরির ভয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও নাম বলতে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অনুরূপ আংশকা করছেন। তারা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচন হবে রক্তাক্ত। মন্দির, মসজিদ, গীর্জা সরকারি দলের মুল ইস্যু। কয়েক মাস ধরে তারা একটু ঝিমিয়ে ছিলেন, কারণ অযোধ্যায় রামের অবস্থানে মন্দির হবে কিনা সে ব্যাপারে ভারতের শীর্ষ আদালতে (সুপ্রীম কোর্ট) একটি মামলা রয়েছে। বিশ্বের সংসদীয় গনতন্ত্রের ইতিহাসে স্পীকার সব সময় নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে থাকেন-এটাই সংসদীয় গনতন্ত্রের রীতি ও নীতি কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই হতভাগ্য ভারতবর্ষের লোকসভার স্পীকার শ্রীমতি সুমিত্রা মহাজন সাধু-সন্তরের সঙ্গে গলা মিলিয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন-অবিলম্বে রামমন্দির চাই। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর লালকৃষ্ণ আদভানির নেতৃত্বে বাবরিম সজিদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়। সে নিয়েও একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর সারা ভারতে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে প্রয়াগে কুম্ভমেলা গঙ্গার বক্ষে দাঁড়িয়ে উত্তর প্রদেশের সন্ন্যাসী মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়াধারী যোগি আদতানাথ তার মন্ত্রীসভার বৈঠকে তারা গঙ্গাজলকে স্পর্শ করে শপথ নেন, নির্বাচনের ঘোষণার মধ্যেই তারা রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করবেন। তাদের মন্ত্রীসভার বৈঠকের ছবি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল। শুধু ভারতবর্ষেই নয়, এধরণের উস্কানিমূলক অপকর্ম সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায়এবং এদেশে প্রায় অধিকাংশ মুসলমান হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশের যে কোন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মে এক ধরণের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মাথা চাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা সবার জন্য বুমেরাং হবে।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির দেশ। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শিতায় সব শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ মানুষকে একত্রে মিলে-মিশে বসবাস করার নজীর স্থাপন করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন উগ্রবাদী দল নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়ে রাজণৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করবেন। বিগত নির্বাচনে নরীন্দ্রমোদী মুসলমান বিদ্বেষী রাজনৈতিক ধোঁয়া তুলে নিরংকুশভাবে ক্ষমতা দখল করেন।

আবারো নরেন্দ্রমোদি, অমিতশাহরা হিন্দু-মুসলমানদের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে ক্ষমতা লাভের নীল নকশা আঁকছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর লালকৃষ্ণ আদভানির নেতৃত্বে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে সারা ভারত জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল, অনুরূপ দাঙ্গা বাধাতে হিন্দু বলয়ের মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরা ও সর্বভারতীয় অমিতশাহ বাবুরা ভারত জুড়ে হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদের জয়গান করে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্থান, আফগানিস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত পার্শ্ববর্তী দেশে কিছু ঘাপটি মেরে থাকা উগ্রবাদ গৌষ্ঠী এর একটি সুযোগ নিতে পারে। তারা দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিত যোগাযোগ করে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করতে পারেন। সদ্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহিত বৈঠকেরপাশাপাশিবিরোধী দলের নেতাদের সহিতওতার বৈঠকহয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতের সকল রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনকালীন কোন সা¤প্রদায়িক বিষ বাস্প ছড়িয়ে নিজ দেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন দাঙ্গার সৃষ্টি না হয়। ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিকামী এদেশের জনগণ সব সময় নিজ দেশে সকল ধর্ম, বর্ণ, পেশাজীবিদের সহিত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পাশাপাশি তাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহিত অনুরূপ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
ভারতীয় সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত সদ্যলেখা তাঁর কলামে ভারতের নির্বাচন প্রাক্কালে অমিতশাহ বাবুরা সাম্প্রদায়িকতা উসকে আবারো ক্ষমতা আসতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তাঁর লেখার বাস্তবতা অনেকটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী ভারতে বসবাসরত অবৈধ মুসলমান তখ াবাংলাদেশীদের ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে এই ধুঁয়া তুলে নির্বাচনে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার বিভিন্ন সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে, খুন-হত্যা, লুটপাটসহ দল-বদলের কেনা কাটার পাশাপাশি সম্প্রতি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্বঘাতী জঙ্গি হামলায় ৪২ জনকওয়ানের মৃত্যুর ফলে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধাবস্থায় বিরাজ করছে। হামলার পর ভারতের বিভিন্ন দলসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো ভারতের প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ ও পাকিস্তানের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করলেও মমতা মন্দোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যে বিশ্ব পরিক্রমা অনেকট াপাল্টে যায়। কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পেছনে মোদি সরকারকে দায়ী করছেন মমতাসহ ভারতের বিরোধী মহাজোট। তারা বলছেন কেন্দ্রের গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারনেইএধরণের বড় ঘটনা ঘটল। মমতা বন্দোপাধ্যায় এও অভিযোগ করছেন যে, নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে পাকিস্তানের সাথে একটি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার হুঙ্কার-পাল্টা হ্ঙ্কুার দিয়ে জাতীয়তাবাদীর ধুঁয়া তুলে মোদী-অমিতশাহরা আবারো নির্বাচনের আগে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বা যুদ্ধের দামামা ছড়িয়ে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা। বার্তা সম্পাদাক, সাপ্তাহিক দেশের ডাক