ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন

নিউজ ডেস্ক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন প্যানেলে যুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল। ছাত্র সংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মঙ্গলবার সরগরম ও উৎসবমুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস; জমজমাট ছিল ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত মধুর ক্যান্টিন। প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে নিজ নিজ আবাসিক হলে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

ডাকসু ও হল সংসদের জন্য ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বামজোট, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীসহ বিভিন্ন প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীরা  মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিজেদের আবাসিক হলে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর পর তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। স্বতন্ত্রভাবেও অনেক শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নির্বাচনে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান জানান, ডাকসুর জন্য সব পদে ২৩৭টি এবং ১৮টি হল মিলিয়ে ৫৯৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মোট ৮৩১টি। বেলা ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই হয়। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর আজ বুধবার সব হলের নোটিশ বোর্ড ও ফঁপংঁ.ফঁ.ধপ.নফ ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ছাত্রলীগ :২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত হয়েছিল ছাত্রলীগের প্যানেল। গতকাল মঙ্গলবার প্যানেলের প্রার্থীরা সংশ্নিষ্ট আবাসিক হলে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সহসভাপতি পদপ্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বানী শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ্দাম হোসাইন স্যার এএফ রহমান হলে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় বিভিন্ন হলে তাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের ভিড় জমে ওঠে। এ বিষয়ে এজিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দময় উত্তেজনা কাজ করছে।

ছাত্রদল :২৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার মধুর ক্যান্টিনে প্যানেল ঘোষণা করে ছাত্রদল। প্যানেলের সব প্রার্থীকে নিয়ে সংশ্নিষ্ট হলে মনোনয়নপত্র জমা দেন ছাত্রদলের নেতারা। এর মধ্যে ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সূর্য সেন হলে, জিএস পদপ্রার্থী খন্দকার আনিসুর রহমান অনিক শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এবং এজিএস পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম সোহেল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী এবং সমর্থকও বিভিন্ন হলে যান। তারা বলছেন, অনেক দিন পর ডাকসুর কল্যাণে আবাসিক হলে তারা আসতে পেরেছেন। এই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতেও থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।

তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন বাধা পেয়েছেন বলে সমকালের কাছে অভিযোগও করেছেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, হুমকিধমকির মুখে হল সংসদে কয়েকজন মনোনয়নপত্র জমা দিতেও পারেননি। ছাত্রীদের অনেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু ভয়ভীতির মুখে বেশিরভাগ ছাত্রীই তা জমা দিতে পারেনি।

বামজোট :২৫ ফেব্রুয়ারি বাম সংগঠনের দুই মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের সমন্বয়ে বামজোট প্যানেল ঘোষণা করে। গতকাল প্যানেলের প্রার্থীরা সংশ্নিষ্ট হলগুলোতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী লিটন নন্দী, জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মাহমুদ এবং এজিএস পদপ্রার্থী সাদিকুল ইসলাম সাদিক তাদের নিজ নিজ হলে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পূর্বে মনোনীত জিএস পদপ্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজিরের নাম ভোটার তালিকায় না আসায় তার বদলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের আহ্বায়ক ফয়সাল মাহমুদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী সমকালকে বলেন, সময়স্বল্পতার কারণে তাড়াহুড়ো করে হলেও ভালোভাবেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। তবে ফজলুল হক হলে মনোনয়নপত্র জমা দিতে প্রার্থীদের প্রশাসনিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ রকম কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন :২৫ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল ঘোষিত হয়। এ সময় ভিপি পদে নূরুল হক নূর, জিএস পদে মুহাম্মদ রাশেদ খান এবং এজিএস পদে ফারুক হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল সোমবার সংশ্নিষ্ট হলে প্যানেলের বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন হল তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল।

ভিপি প্রার্থী নূরুল হক নূর বলেন, আজ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হইনি কিংবা শুনিনি।

অন্যান্য :এ ছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল-আম্বিয়া), জাসদ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের পৃথক প্যানেলের প্রার্থীরা গতকাল সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। পাশাপাশি জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্য আলীম হায়দার ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র এ. আর. এম. আসিফুর রহমান জিএস পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে স্বতন্ত্র প্যানেল গঠন করেছেন।

বিভিন্ন পদে প্রার্থী পরিবর্তন :এদিকে বিভিন্ন কারণে ঘোষিত ডাকসু ও হল সংসদের কয়েকটি পদের প্রার্থিতায় পরিবর্তন এনেছে ছাত্রলীগ। এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শামস ই নোমানের পরিবর্তে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদার ও ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে রাকিব হাওলাদারের পরিবর্তে শামস ই নোমানকে আনা হয়েছে। প্যানেলের সদস্য পদে ইশাত কাশফিয়া ইরার পরিবর্তে কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদা পারভীনকে আনা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদে ছাত্রত্ব না থাকলেও আব্দুল্লাহ সুবাইলকে ভিপি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও তিনি সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হতে না পারায় তার পরিবর্তে শাকিলকে ভিপি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।