বিদেশি গণমাধ্যমে চকবাজারের আগুন

নিউজ ডেস্ক:  বিশ্ব গণমাধ্যমে পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুনের ঘটনা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের মূল খবরে দুর্ঘটনার খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। তারা ‘ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকায় ভয়াবহ আগুন’ শিরোণামে খবরটি প্রকাশ করেছে।আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা এএফপি ‘বাংলাদেশের রাজধানীতে আগুনে পুড়ে ৬৯ জন নিহত হয়েছে’ এই শিরোণামে আগুনের ঘটনা জানিয়েছে। তারা লিখেছে, রাসায়নিকের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন থেকে কয়েকটি ভবনে ওই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ওই ভবনের ভেতর আটকা পড়ে।

রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশে ভবনে আগুন লেগে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।তারা আরও লিখেছে, বাংলাদেশে ভবনে আগুনের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। শিথিল নিয়মের জন্য গত কয়েক বছরে এখানে শত শত লোক আগুনে পুরে মারা গেছে বলেও তারা মন্তব্য করেছে।

‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র অনলাইন সংস্করণে বাংলাদেশের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর এসেছে।আগুনের ঘটনায় ৭০ জনের নিহতের খবর তারা উল্লেখ করেছে।তারা জানিয়েছে, নিচতলায় থাকা কেমিক্যাল কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুতই তা বিয়ের অনুষ্ঠান চলা একটি কমিউনিটি সেন্টারসহ আশেপাশের চারটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘ঢাকার চকবাজারে বিধ্বংসী আগুন, মৃত অন্তত ৬৯’ শিরোণামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। দমকল বাহিনীর বরাত দিয়ে তারা বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে , ‘রাসায়নিক কারখানা থাকায় বাংলাদেশ ভবনে আগুন লেগে ৬৯ জন নিহত’ শিরোণামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া মিরর, ইয়াহু নিউজ,গার্ডিয়ান নিউজ, আল–জাজিরা, টেলিগ্রাফের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো আগুন লাগার খবর প্রকাশ করেছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে হাজী ওয়াহেদ মিয়ার বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আশপাশের আরও চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাতেই দগ্ধ-আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা দেড়টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই অগ্নিকাণ্ডে ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যালের গুদামে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।