ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্রজোটের ১১ দফা

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ১১ দফা তৈরি করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দফা তুলে ধরেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপুল চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক প্রমুখ।

দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস, দখলদারি ও প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রমুক্ত গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের ব্যবস্থা, গেস্টরুম ও গণরুমে ছাত্র নির্যাতন বন্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, শিক্ষা-গবেষণা ও ছাত্র অধিকার সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল, ধর্মভিত্তিক, সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও লৈঙ্গিক বৈষম্য সৃষ্টিকারী অপতৎপরতা নিষিদ্ধ, ’৭৩–এর অধ্যাদেশের অসম্পূর্ণতা দূর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত, উচ্চশিক্ষা কমিশনের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, শিক্ষা-চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার নিয়ে ব্যবসা বন্ধ, শিক্ষার সব স্তরে বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ করে সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক একই পদ্ধতির শিক্ষানীতি, শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, তা না হলে বেকার ভাতার ব্যবস্থা, গণমানুষের ন্যায্য আন্দোলনে সংহতি জ্ঞাপন, শাসকশ্রেণির নয়, শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষায় সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ৷

এসব দফার সঙ্গে ঐক্যমত পোষণকারীদের নিয়ে প্যানেল দেওয়া হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল কবীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হতে যাচ্ছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস জুড়ে দখলদারিত্বের যে অচলায়তন তৈরি হয়েছে তা ভাঙার সোপান ডাকসু নির্বাচন। আমরা স্পষ্টতই মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যে আমাদের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব দাবি উপেক্ষা করছে। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা দাবিসমূহ পূরণের আবারো আহ্বান জানাই।