৭১বিরোধী চেতনা এখনো রয়ে গেছে দেশে

সুমন দত্ত: এখনো দেশে ৭১ বিরোধী চেতনা রয়ে গেছে। দেশ সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত হতে পারেনি। ধর্মনিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এখনো সংবিধানে বহাল আছে। তাই সত্যিকারের ৭১র চেতনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মরণ অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবা কামাল, প্রিপ ট্রাস্টের প্রধান আরমা দত্ত, কলামিস্ট আবুল মকসুদ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের ছেলে হয়ে আমি বঙ্গবন্ধুকে তিন বার সামনা সামনি দেখতে পেয়েছি। একবার বিশিষ্ট আইনজীবী এস আর পালের বাসায়। দ্বিতীয়বার আমার বাবার চেম্বারে আর পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বঙ্গভবনে। দেবেশ ভট্টাচার্য আদালতের ভাষা বাংলা করবেন এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি তা করে যেতে পারেননি। নারী অধিকার নিয়ে উনি অনেক কথা বলেছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের বাপের সম্পত্তিতে অধিকার ও ডিভোর্সের বিষয় ছিল। এসব বিষয় স্পর্শকাতর হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে আশার কথা এখন অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। যেমন এখন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন হয়েছে। আগামীতে আরও হবে। দেশে এখনো ৭১ বিরোধী চেতনা রয়ে গেছে। আজ যাদের স্মরণ করা হচ্ছে তারা অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তা এখনো চলমান। এখনো দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি। দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের জন্য দেবেশ ভট্টাচার্য ছিলেন সোচ্চার। তাই তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গড়তে সহায়তা করেছেন।

আবুল মকসুদ বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অন্যরকমের এক রাজনীতিবিদ ছিলেন। একবার কলকাতা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসে তার পরিচয় দিলে আমার অতিরিক্ত বহন করা বইয়ের বোঝার জটিলতা কেটে যায়। তিনি আমার সঙ্গে থাকায় এই উপকার পাই। তাকে সাকা চৌধুরী সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। কেন তিনি সাকার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। সে তো যুদ্ধাপরাধী। উত্তরে তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক। একজন আরেকজনকে দেখা হলে বলতেই পারেন কেমন আছেন।

আরমা দত্ত বলেন, দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আমার দাদু ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের চেম্বার বহুবার দেখেছি। আমার দাদুর কাছে যখন দেবেশ জ্যাঠা মশাই আসতেন তিনি সেখানে বসে থাকতেন। ছোট শিশুর মত আমার দাদুর কাছে বসে থাকতেন। দেবেশ তুমি যাও। এটা না বলা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যেতেন না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান পার্লামেন্টেরিয়ান। তিনি নিজের পরিচয়ে উজ্জ্বল। ১৯৪৮ সালে দেবেশ জ্যাঠামশাইয় আমার দাদুকে বলেছিলেন আদালতের সব ধরনের ভাষা হবে বাংলা।