নম্বর বদলে বেশি গেছে রবিতে, কম টেলিটকে

নিউজ ডেস্ক:  মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সেবা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটিতে (এমএনপি) অন্য অপারেটর থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক এসেছে রবিতে। আর সবচেয়ে কম টেলিটকে। গত চার মাসে এমএনপি সেবা নেওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। এই চার মাসে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২১ জন গ্রাহক অপারেটর বদল করেছেন।

বিটিআরসি থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, অপারেটর বদল করে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক এসেছেন রবিতে। রবিতে ৯৩ হাজার ৮২৮ জন এসেছেন, আর রবি ছেড়ে গেছেন ২৩ হাজার ৯১১ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও ১৪ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক রবি ছেড়ে যেতে চাইলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে পারেননি।

২৫ হাজার ৬১৫ জন গ্রাহক বাংলালিংকে এলেও ৪৫ হাজার ৯২ জন ছেড়ে গেছেন। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ৪৪ হাজার ৩১ জন বাংলালিংক ছেড়ে যেতে চাইলেও নানা কারণে পারেননি।

১২ হাজার ৩৪৬ জন গ্রাহক পেয়েছে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন। অথচ তাদের ছেড়ে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন। এর বাইরে ৩৯ হাজার ৮৫৭ জন গ্রামীণফোন ছাড়তে চাইলেও পারেননি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটক পেয়েছে ২ হাজার ২ জন। অন্যদিকে তাদের ছেড়ে গেছেন ২ হাজার ৩০১ জন।

গত বছরের ১ অক্টোবর এমএনপি সেবা চালু হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২১ অক্টোবর। ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি এই সেবা দিচ্ছে। শুরুতে অপারেটর পরিবর্তনে ১৫৮ টাকা খরচ পড়লেও এখন ৫৮ টাকায় এই সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

বেশি গ্রাহক পাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, ‘আমাদের নেটওয়ার্ক ও সেবার মান প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ার কারণেই এমএনপির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গ্রাহক রবিকে বেছে নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। গ্রাহকের আস্থার প্রতিদান দিতে নেটওয়ার্ক ও সেবার মান ধরে রাখতে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

সাহেদ আলম আরও বলেন, ‘তবে করপোরেট গ্রাহকদের এমএনপি সেবা গ্রহণে এখনো বড় ধরনের জটিলতা রয়ে গেছে। এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান সফলভাবে এমএনপি সেবা নিতে পেরেছে। ব্যাংকের ওটিপি সেবা পেতেও সমস্যায় পড়ছেন এমএনপি সেবা নেওয়া অনেক গ্রাহক। আমরা আশা করি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে।’