কাদিয়ানিদের এস্তেমা বন্দ না হলে: হেফাজতের লংমার্চের হুমকি

পঞ্চগড়ে আহমদীয়া মুসলিম তথা কাদিয়ানীদের তিনদিনের ইজতেমা বন্ধ না হলে লংমার্চ করার হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সংম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পঞ্চগড়ের তিনদিনের ইজতেমা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে পঞ্চগড় অভিমুখী লংমার্চ করবে হেফাজতে ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফি, মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা লোকমান হাসিম, মাওলানা সালিম উল্লাহ, মাওলানা নোমান মেখলী, হেফাজত নেতা মাওলানা আনস মাদানী, আ ন ম আহমদ উল্লাহ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা শফির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আনাস মাদানী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইহুদি-খ্রিস্টানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ইসলামের নাম ভঙ্গিয়ে ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। তারা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে দীর্ঘকাল যাবৎ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের দাবি, ”কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধ সুন্নীদের মতবিরোধের মত নয়। বরং তাদের সাথে মুসলমানদের বিরোধ এমন কিছু মৌলিক আকীদা নিয়ে। কাদিয়ানীরা ইসলাম ধর্মের অনেক মৌলিক আকীদা অস্বীকার করার কারণে অমুসলিম ও কাফের।”

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়, এদেশের কাদিয়ানীরা সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্ম্বালম্বীদের মত বাংলাদেশের নাগরিকের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা যতটুকু নাগরিক অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে, ততটুকু কাদিয়ানীরা ভোগ করুক। তবে তা নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয়ে হতে হবে, মুসলমান পরিচয়ে নয়।