নির্বাচনে ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করা হয়েছে: ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে দাবি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এ ধরনের কাজে ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করা হয়েছে। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পুত্র প্রয়াত রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় তিনি এসব বলেন। গণফোরাম এই সভার আয়োজন করে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, যে নির্বাচন হয়েছে, সেটিকে অনেকে প্রহসন বলেছেন, নাটক বলেছেন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এটা একটা ভাওতাবজি বলা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরের দিন বলা হল- ‘আমিতো পাঁচ বছরের জন্য এসে গেছি।’ এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষ এটা মেনে নেবে না। এর জন্য তাদের যা করণীয় আছে তা তারা করবেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ২৯ ডিসেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির পর এই দেশে আর গণতন্ত্র ফিরে আসবে কিনা তা বলতে পারছি না। এই নির্বাচনে সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদেরকেও কলঙ্কিত করা হয়েছে। যে শিক্ষক অর্থের বিনিময়ে কিংবা ভয়ভীতিতে এই অনৈতিক কাজ করেছেন তিনি কিভাবে জাতির সন্তানদের শিক্ষা দিবেন। যে প্রশাসনের কর্মকর্তা এই ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি কিভাবে দেশের জনগনকে সেবা প্রদান করবেন। এর মাধ্যমে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এখন একমাত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্যবোধ নেই। এরা নিষ্ঠুর, অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে আন্দোলন করলে সফল হওয়া যাবে না। নির্বাচনে যারা ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছে তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা না আসলে এই আন্দোলনও সফল হবে না।

আ স ম আব্দুর রব আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ এখন আপোষে সব কিছু অর্জন করতে চায়। তারা কোনও ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না। যেমনটা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অন্যান্য আন্দোলনে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে নিজেদের ভাগ্য ফেরানো যাবে না।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরকে তারা জাতীয় লজ্জা ও ঘৃণা দিবস পালন করতে পারেন। এই ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার গণতন্ত্রের লাশের উপর শকুনের উল্লাসের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশের কল্যাণে, স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণ রক্ত দিয়েছিলেন সেই চেতনায় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর মানুষের ভোটাধিকারের কবর রচিত হয়েছে। এটার কারণ খুঁজতে বিচারিক কমিশন গঠন করে তদন্ত করতে হবে। এর রহস্য উদঘাটন করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই। তিনি দুইটা কাজ করতে পারেন। এর মধ্যে একটা হচ্ছে বিচারিক তন্ত অথবা আবারো সবার সঙ্গে সংলাপ। এতে রাজনৈতিক সমাধান বের হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের রাজনীতিতে সহাবস্থান ছিলো। শাহ আজিজুর কিংবা ফজলুল কাদের চৌধুরী কারাগারে আটক থাকার সময়ে বঙ্গবন্ধু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাদের খোঁজখবর নিতেন। তখন রাজনীতি ব্যবসা ছিলো না। সেই রাজনীতি ছিলো মানুষের কল্যাণে। এখন ভেদাভেদ বাড়ছে, মানুষের জীবনযাত্রায় বৈষম্য বাড়ছে। এটা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিলো না।

সদ্য কারামুক্ত ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম বলেন, আমলাতান্ত্রিক সহযোগিতায় ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আসলে এরা নিজেরা নিজেদের বঞ্চিত করেছে। স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য এটা লজ্জার।

তিনি বলেন, রাজনীতি এখন ব্যবসায় হয়ে গেছে। এটা রাজনীতি নয়। এটা কোত্থেকে আসছে? দেশের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে।

শোকসভায় গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।