কুলাউড়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ইউপি সদস্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউপির আলীনগর গ্রামে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন আরেক ভূক্তভোগী মেয়ের মা নেকজান বিবি।

জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউপির আলীনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন ও ইউপি সদস্যা শেফালী বেগমের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে মাহফুজা আক্তার শাম্মীকে একই গ্রামের দাইয়ার মিয়ার ছেলে ছিদ্দিক মিয়ার কাছে বিয়ে দিয়ে দেন ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান কেরামত। অথচ এই ছেলে দীর্ঘদিন থেকে নেকজান বিবির মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।

গত ১৪ জানুয়ারী রাত ৮ টায় ছিদ্দিক মিয়া তার সহযোগী রাসেল মিয়া, আব্দুল হাসিম, জুবুল মিয়া নেকজান বিবির মেয়ের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। এসময় তারা মেয়ের গায়ের কাপড় জোরপূর্বক ছিড়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ছিদ্দিক তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় ছিদ্দিক মিয়াকে প্রধান আসামী করে আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা নেকজান বিবি। এরপর ৩১ জানুয়ারি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নেকাজান’র মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় ছিদ্দীক ও তার দলবল। ঘটনা জানাজানি হলে মান বাঁচাতে কেরামত মেম্বারের বাড়ি যান নেকজান। সে যাত্রায় মেয়েকে উদ্ধার করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেবার আশ্বাস দেন কেরামত। ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পরও বিচার না পাওয়ায় আবার মেম্বরের কাছে যান নেকজান।

মেম্বার এবার নেকজানকে মামলা করতে বলেন, নেকজান মামলা করেন। কিন্তু মামলা তদন্তাধীন অবস্থায়ই আরেক ইউপি সদস্যা শেফালী বেগমের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে শাম্মীকে ১নং বিবাদীর (১ম মামলা) নিকট বিয়ে দিয়ে দেন ইউপি সদস্য কেরামত। এ ঘটনায় নেকজান বিবি গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান কেরামত ও শেফালী বেগমের বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেন।

মামলার বাদী নেকজান বিবি বলেন,“রক্ষক যদি ভক্ষক হোন আমরা কই যাবো? আমি ন্যায় বিচার চাই, আমার মেয়ের সম্মানজনক জীবন চাই।”

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান,অভিযোগের কপি আমি থানায় পাঠিয়েছি। পুলিশ তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

কুলাউড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান,ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।