কুলাউড়ায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠির সপ্তদশ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: ‘আঁধারবৃত্তে আগুন জ্বালো, আমরা যুদ্ধ, আমরা আলো’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি কুলাউড়া উপজেলা সংসদের সপ্তদশ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন শেষে ফজলুল হককে সভাপতি এবং নির্মাল্য মিত্রকে সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) কুলাউড়া পৌর শহরের মাগুরাস্থ রুদ্রবীণা সংগীত বিদ্যালয়ে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত দুই অধিবেশনের মাধ্যমে প্রথমে আলোচনা সভা পরে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিকাল ৪টার দিকে প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভায় সংগঠনের উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি জহরলাল দত্ত।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন কার্যক্রমের শুরুতে সাধারণ সম্পাদকের খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল চক্রবর্তী। পরে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভায় সকল কাউন্সিলরের অনুমতিতে একটি ৭ সদস্যের সাবজেক্ট কমিটি গঠন করা হয়। সকলের সর্বসম্মতিতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি জহরলাল দত্তের অনুমতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠি কুলাউড়া উপজেলা শাখার ১৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন, সভাপতি মো. ফজলুল হক, সহ সভাপতি বিপুল চক্রবর্তী, সৈয়দা শাহ লতিফা আক্তার, সুমিত্রা ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, সহ সাধারণ সম্পাদক নান্টু দাস, অনিরুদ্ধ রায়, কোষাধ্যক্ষ হৃদয় দাস, সম্পাদক মণ্ডলী জুয়েল আহমেদ সেবুল, দিলীপ ঘোষ, শ্যামলী মল্লিক, সূচনা ধর, সদস্য মাহবুব আলম মাক্কু, আব্দুল লতিফ, মাজহারুল ইসলাম, জয়ন্ত দেবনাথ, এইচডি রুবেল ও শাকির আহমদ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি ও শপথ বাক্য পাঠ করান উদীচী মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি জহরলাল দত্ত। সম্মেলনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার মধ্যাংশে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি কুলাউড়া উপজেলা শাখা সংসদের শিল্পীদের অংশগ্রহণে গান পরিবেশনা করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য এ দেশে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদের উত্থান রোধে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান। গণমানুষের সংস্কৃতির চেতনা উদীচী জন্ম থেকেই বহন করে চলছে এবং চলবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সাংস্কৃতিক পর্যায়গুলো সঠিকভাবে চর্চা এবং বিকাশলাভ করেনি বলেই ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে একমাত্র উদীচীই সেই ধারণাগুলো অনুসরণ করছে এবং আরো বেশি চর্চার মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এই সাম্প্রদায়ীক ধর্মান্ধ রাজনীতি বন্ধ করা হবে বলে বক্তারা বলেন।