পরপর ক্ষমতায় আসা মানেই একদলীয় রাষ্ট্র নয়: গওহর রিজভী

নিউজ ডেস্ক:  পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসা মানেই একদলীয় রাষ্ট্র নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেছেন, গত দুই মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের কর্মকাণ্ড পছন্দ হয়েছে বলেই একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় পাঠিয়েছে জনগণ। ফলে এই ক্ষমতায়নকে একদলীয় রাষ্ট্র বা গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে যাওয়া বলে সমালোচনা করা সঠিক নয়।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে অপফোর্ড ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরার ‘হেড টু হেড’ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি রোববার ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। তবে তা সম্প্রচার হবে আগামী মার্চে।

বাংলাদেশ কি গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে গিয়ে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে- উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে গওহর রিজভী বলেন, না, কোনোটিই নয়। যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, টোরি, লেবার- দুই দলই অতীতে পরপর তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। এর মানে এই নয়, যুক্তরাজ্য একদলীয় রাষ্ট্র হয়ে গেছে। একটি সরকারের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেই জনগণ নির্ধারণ করে পরবর্তী মেয়াদের জন্য তাদের আবার ক্ষমতায় রাখবে কি-না। শেখ হাসিনা সরকারের বিগত দুই মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে।

দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক, প্যানেল প্রশ্নকারী ও দর্শকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন ড. গওহর রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের লবিস্ট টবি ক্যাডম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফয়েজ, বাংলাদেশ সরকারের কঠোর সমালোচক ডেভিড বার্গম্যান ও সাংবাদিক তাসনিম খলিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মহিদুর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক একটি বড় গ্রুপও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থক একটি গ্রুপও ছিল। তবে প্যানেল প্রশ্নকর্তা তিনজনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুনা তাসনিম ছাড়া আব্বাস ফয়েজ ও তাসনিম খলিল দু’জনই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কট্টর সমালোচক। আলজাজিরার স্টাফ ছাড়া অন্যদের জন্য ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার ক্ষেত্রে ছিল কড়াকড়ি। ছবি তোলার চেষ্টা করায় এক দর্শককে হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।