চন্দ্রবাবুর উপস্থিতিতে ধরনা প্রত্যহার মমতার

নিউজ ডেস্ক:  বিহারের তেজস্বী যাদব আর তামিলনাড়ুর কানিমোঝির পর এবার কলকাতায় মমতার ধরনা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তেলুগুদেশম পার্টি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। আর তার কিছুক্ষণ পরেই ধরনা প্রত্যাহার করে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চন্দ্রবাবু নাইডু এবং তেজস্বী যাদবের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার লম্বা বৈঠক শেষে তিনি মেট্রো চ্যানেলের ধরনা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু মঙ্গলবার ধরনা মঞ্চ থেকে বলেন, দেশকে বাঁচাতে মমতার পাশে রয়েছি আমরা। মোদি জমানায় দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। বিজেপি বলছে মোদি এবং শাহ ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে যুক্ত। আমাদের এক হয়ে লড়াই করতে হবে গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য।

চন্দ্রবাবুর এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরে ধরনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন মমতা। তিনি বলেন, এই ধরনা দেশের মানুষের জয়। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। জোট সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ধরনা তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

চন্দ্রবাবু যখন ধরনা মঞ্চে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মলয় দেকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে নির্দেশ দিল।

সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক অভিযোগ করেছে, কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিশৃঙ্খল ব্যবহার ও সর্বভারতীয় সার্ভিস রুল ভেঙেছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে তথ্য রয়েছে, রাজীব কুমার কয়েকজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রীর ধরনায় যোগ দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনারের এই ধরনের কার্যকলাপ অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলের বিরুদ্ধে বলেও চিঠিতে লিখেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রের বিরোধ ঘিরে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার বিকেলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিবিআই) কর্মকর্তারা কথিত সারদা দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে কলকাতা রাজ্যের পুলিশ কমিশনারের বাসায় হাজির হলে বাধার মুখে পড়েন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সিবিআই কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ কমিশনারের বাসভবনে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ কর্মসূচির মতো ধরনা কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

মোদি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচাতে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে গত রোববার রাতভর কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।