জাহালমের মুক্তি: ক্ষতিপূরণ ও দুদকের জবাবদিহিতা দাবি টিআইবির

নিউজ ডেস্ক:   সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাবাসের পর উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে পাটকল শ্রমিক জাহালম মুক্তি পাওয়ায় স্বস্তি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, জাহালমের জীবন থেকে তিন বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর জন্য তাকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও সংস্থাটির প্রধান বলেছেন, কারাগারে জাহালমকে যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ কখনই সম্ভব নয়।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে টিআইবি’র পক্ষ থেকে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নিরাপরাধ জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ ও ভুল তদন্তে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আদালত ন্যায়বিচারের গুরুতর বিচ্যুতির অবসান ঘটিয়েছেন। তবে জাহালম মুক্তি পেয়ে গেছেন, এটা ভেবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। বরং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে অবিলম্বে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও জাহালমকে যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ কখনই সম্ভব নয়। এ বিবেচনা থেকেই এই ঘটনার গুরুত্ব নির্ধারণ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

ড. জামান বলেন, এ ঘটনায় দুদক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এতে করে কমিশনের প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কিভাবে এই ঘটনা সংঘটিত হলো, কারা জড়িত ছিলেন, কেন এমন ভুল তারা করলেন, নাকি প্রকৃত অপরাধীর সঙ্গে যোগসাজশে তারা এই জালিয়াতিতে অংশ নিয়েছেন— এই সবগুলো বিষয়ই তদন্ত করে দেখতে হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুদক যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেই কমিটি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং তদন্তের ফল ও তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গৃহীত হলো সে সম্পর্কে দুদক দেশের জনগণকে অবহিত করবে— সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি। এই তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এধরনের অবিচার আর কারও সঙ্গে না হয়।

ড. জামান আরও বলেন, এ ঘটনা আরও কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার উত্তর পাওয়াটা জরুরি। যেমন— গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গতবছর মে মাসেই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করেছিল। এর দীর্ঘ আট মাসেও দুদক কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এখানে কোনো যোগসাজশের সম্ভবনা তদন্ত ছাড়া নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, জাহালমের মতো আর কেউ এভাবে বিনাবিচারে কারভোগ করছেন না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’ শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুদক আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে সবক’টি মামলায় আসামি করা হয় জাহালমকে। মামলাগুলোর মধ্যে ২৬টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এসব মামলার আসামি হিসেবে ২০১৬ সালে গ্রেফতার করা হয় জাহালমকে। ওই সময় থেকেই কারাগারে ছিলেন তিনি।

এ ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ‘স্যার আমি সালেক না, জাহালম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। এরপর রোববারের (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই জাহালমকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই অনুযায়ী বিনা বিচারে ও বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগের পর রোববার দিবাগত রাতে মুক্তি পেয়েছেন জাহালম