আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন

নিউজ ডেস্ক:  মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের মেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল তিনটায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ‘শেখ হাসিনা: যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ শীর্ষক গ্রন্থের মিসরীয় লেখক-সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। বইটির অনুবাদ প্রকাশ করছে বাংলা একাডেমি। লেখকের উপস্থিতিতে বইটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া চার গুণীর হাতেও এ মঞ্চেই পুরস্কার প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস প্রমুখ। এছাড়া গ্রন্থমেলার নতুন লোগো উপস্থাপন করেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, বইমেলায় সকল প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবেন। এবারের মেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩ লাখ বর্গফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৭০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্যাভিলিয়ন রয়েছে ২৪টি। এছাড়া লিটিল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৫৫টি স্টল থাকবে। শিশুদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে শিশু চত্বর। এ মাসের প্রতিটি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার থাকবে শিশুপ্রহর। এতে শিশুরা অভিভাবকদের সঙ্গে মেলা উপভোগ করবে। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাকর্মীরা পাহারায় থাকবে। থাকবে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা।

মেলা থাকবে সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত। লেখকের সঙ্গে পাঠকের যোগাযোগ বাড়াতে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের মেলায় চালু হচ্ছে ‘লেখক বলছি’ নামের মঞ্চ। প্রতিদিন পাঁচজন করে লেখক পাঠকের সামনে আসবেন নিজের নতুন বই নিয়ে। এছাড়া, প্রতিদিন মূল মঞ্চে সেমিনার, বিশিষ্ট বাঙালি মনীষার জন্মশতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাদের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে থাকবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। মেলার বই নিয়ে এবং স্টল সাজ-সজ্জার ওপর কয়েকটি পুরস্কার প্রদান করা হবে।

মেলায় টিএসসি ও দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটি মূল প্রবেশ পথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের মোট ৬টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমি ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। মেলা প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে এডেমি কৃর্তপক্ষ। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এবারও মেলা আয়োজনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বিকাশ সহায়তা করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্র্রচার করবে।