আবাসন দফতরের কর্মকর্তাকে ঘুষ সেধে কর্মচারী বরখাস্ত

পদোন্নতির জন্য নিজ দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘুষ সাধার অভিযোগে সচিবালয়ে আবাসন পরিদফতরের একজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার আবাসন পরিদফতরের প্রধান সহকারী অভিমন্যু সিংহের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ভূঞাকে ঘুষ সাধার অভিযোগ উঠে। এই ঘটনার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই কর্মকর্তাও উপস্থিত হন সেখানে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দফতরের ওপর ব্যবস্থা নেয়ার ভার দেন দুদকের কর্মকর্তারা।

সচিবালয়ে ৫ নম্বর ভবনের (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়) নিচ তলায় আবাসন পরিদফতর। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানা গেছে, প্রধান সহকারী (আগের তৃতীয় শ্রেণি) অভিমন্যু সিংহ দীর্ঘদিন ধরেই সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি চাইছিলেন। গত বুধবার অভিমন্যু অতিরিক্ত পরিচালকের রুমে গিয়ে সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতির অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘স্যার আমি আপনাকে পছন্দ করি। আপনার জন্য একটা জিনিস নিয়ে এসেছি এটা আপনি রাখুন। বলেই একটি খাম এগিয়ে অতিরিক্ত পরিচালকের ড্রয়ারে ঢুকিয়ে দিতে যান। খামের মধ্যে কী- অতিরিক্ত পরিচালক জানতে চাইলে অভিমন্যু বলেন, স্যার রেখে দিন, বাসায় গিয়ে দেখবেন। শহিদুল ইসলাম তাকে জোর করে বের করে দিতে চাচ্ছিলেন। এরমধ্যেই দুদকের দুই কর্মকর্তা এসে হাজির হন। পরে দেখা গেল খামের মধ্যে ৫০ হাজারের মতো টাকা।

এরপর খাম দেয়ার বিষয়ে তিনি সবার সামনে বলেন, ‘স্যার (শহিদুল ইসলাম) আপনি আমার খুব প্রিয়। কাগজটা আপনাকে দিতে আসছিলেন। দুটো খাম একই রকম হয়ে যাওয়ায় আমি ভুল করে আপনাকে ওই খামটা দিয়ে দিয়েছি।’

পরে দেখা যায় তার খামে খাদ্যমন্ত্রীর সুপারিশ সম্বলিত তার পদোন্নতির একটি আবেদন যা পূর্তমন্ত্রীর মন্ত্রীর বরাবরে লেখা।

আবাসন পরিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি রহস্যময়। অভিমন্যু দুদক কর্মকর্তাদের ডেকে এনে ঘুষ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফাঁসাতে চেয়ে ছিলেন কি না? নাকি দুদক কর্মকর্তারা কাকতালীয়ভাবেই ওইদিন এসেছিলেন। তিনি কি সত্যিই ভুল করে ওই খামটি দিয়েছিলেন- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মনে।

অতিরিক্ত পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘অভিমন্যু আদালতের আদেশ বলে চাকরি করছেন। অফিসের স্যারদের নামে কুৎসা রটনা, পদোন্নতি দেয়া হয় না বলে মিথ্যা অভিযোগসহ নানান অভিযোগে ১০ বছর আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি আদালতে যান, আদালত তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দেয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে চাকরিতে বহাল রাখার আদেশ দেয় আদালত। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আরও চার বছর।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি ভুল করে টাকার খামটা দিয়েছিলেন কি না? আমরা সবকিছু যাচাই করে দেখতে চাই। কারণ আমরা কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দিতে চাই না। আমাদের দ্বারা কেউ যাতে একটুও ভোগান্তির শিকার না হয়।’

‘আমাদের যেটা দায়িত্ব তা হল আমরা প্রাথমিকভাবে তাকে বরখাস্ত করেছি। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেয়া হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলেন অতিরিক্ত পরিচালক।

অভিযোগের বিষয়ে অভিমন্যু সিংহ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন চাকরি করছি। অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির কোন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে নেই। আমি ২০০ কোটি টাকার বাড়ি নিতে দেইনি বলে আমার বিরুদ্ধে অতীতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভুল করে স্যারকে খামটি দিয়েছি। আমি মোবাইল ফোন কেনার জন্য একটি খামে টাকা রেখেছিলাম। কাগজপত্র রাখার খাম ও টাকার খামটি একই রকম হওয়ায় এ রকম ভুল হয়েছে।’

আবাসন পরিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সময় সহকারী পরিচালকের চলতি দায়িত্বও পেয়েছিলেন অভিমন্যু, তবে তার কীর্তিকলাপের কারণে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়।’

দুদকের দুই কর্মকর্তা আবাসন পরিদফতরের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ঘটনাটি আপনাদের মধ্যে সংগঠিত ও আপনারাই এটি উদঘাটন করেছেন, তাই এ বিষয়ে আপনারই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

কোন বাসা কারা অবৈধভাবে দখল করে আছে- এই তথ্যের জন্য এসেছিলেন বলেও দুদকের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন আবাসন পরিদফতরের কর্মকর্তাদের।