ডাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও আস্থা সৃষ্টি হয়নি

নুরুল হক নূর:   দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। নির্বাচন হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে প্রশাসন বেশকিছু কাজও করেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। তাদের কথা শুনেছে। তবে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্রস্তাবনায় যে কয়েকটি দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছে, প্রশাসন এর একটিও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আসলে প্রশাসন সব ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারেনি যে, সুষ্ঠুভাবে ডাকসু নির্বাচন আদৌ হবে কি-না।

ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যসব সংগঠন একই কথা বলেছে, ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করতে হবে। কেননা, ১০ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে প্রতিটি হলে তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। সে কারণে হলে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র দেওয়া হলে সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে ভয়েই তাহলে ভোট দিতে যাবেন না। তাদের ভোটও হয়তো দিতে দেবে না। সে জন্য আমাদেরও দাবি ছিল ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করা। হলের ভেতরে কেন্দ্র হলে এমনও হতে পারে, ভোট দিতে গেলে আমাদের মারধর করে বের করে দিতে পারে। বাধা দিতে পারে। তাই ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে করার দাবি ছিল আমাদের।

আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা যখন আন্দোলন করেছিলাম তখন আমাদের ওপর দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে, শাহবাগে, শহীদ মিনারে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, এমনকি শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির সামনে আমরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা নাশতা খেতে গিয়েছিলাম। সেখানেও ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা যদি ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে না পারি, যদি এভাবে বাধা দেওয়া হয় তাহলে তো আমরা সুষ্ঠুভাবে কার্যাবলি সম্পন্ন করতে পারব না। তাহলে বোঝা যাবে ডাকসু নির্বাচনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই আমাদের আস্থা সৃষ্টির জন্য এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারপরও আমরা আশা করছি, সব ছাত্র সংগঠন একই ধরনের আচরণ করবে, একটি সমন্বিত পরিবেশ তৈরি হবে। আর যারা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

বিভিন্ন সময়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি। সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নে নীতিগতভাবে ডাকসু নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এখনও আশা করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সংসদ নির্বাচন অর্থপূর্ণ করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেসব ব্যবস্থা নেবে। সেই আশায় আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের জন্য প্যানেল ও সদস্য নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া সাধারণ ছাত্ররা- যাদের প্রকৃত অর্থে মনে হবে আমাদের সঙ্গে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে, তাদের নিয়ে আমরা প্যানেল করতে পারি। আমরা সাধারণ ছাত্রদেরই বেশি প্রাধান্য দেব।

যুগ্ম আহ্বায়ক: বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ