আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে গার্ড অব অনার

রওশন ঝুনু, বিশেষ সংবাদদাতা: দেশবরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক, সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টায় গুণী এই কিংবদন্তী মুক্তিযোদ্ধা শিল্পীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি এই বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বিহ্বগলে করুণ সুর বেজে ওঠে । তখন চাপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এরপর তাঁর কফিনে সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষও তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, কুমার বিশ্বজিৎ, মনির খান, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুন উর রশীদ, পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, শংকর সাওজালসহ অসংখ্য কণ্ঠশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, কবি-সাহিত্যিক, ক্রিড়াবিদ এবং সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল ও আরো ক’জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ১২টা ৪০ মিনিটে পুনরায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। নিরবতা শেষে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং জোহরের নামাজের পর ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি তে। সেখানেও দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আফতাবনগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৩ বছর বয়সী বরেণ্য এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। যখন তাঁর হৃদস্পন্দর পাওয়া যাচ্ছিলো না, তখন তাঁকে দ্রুত মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (আয়েশা মেমোরিয়াল) নেওয়া হলে, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তাঁর মরদেহ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের মাঝামাঝি তার হার্টে আটটি ব্লক ধরা পড়ে। সেইসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তখনই তাঁর হার্টে দুটি রিং পরানোসহ তাঁর চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করেন এবং সার্বিক খোঁজ খবর রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তাঁর গুণের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজন শ্রদ্ধেয় কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে মন যেখানে হৃদয় যেখানে’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’ প্রভৃতি।

তাঁর সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’,‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে মেঠো পথটার পাশে দাঁড়িয়ে’ ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবো না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতরাও লাগে না’,‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও তার নিজের লেখা, সুর করা এবং গাওয়া আরো অসংখ্য গান রয়েছে।