সেই ‘বনখেকো’ ওসমান গনির দণ্ড বহাল

নিউজ ডেস্ক:  জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চাকরিচ্যুত প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গনির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড, জরিমানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এক আদেশ দেন।

আদেশে বিচারিক আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে গনির করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতে ওসমান গনির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরসিদ আলম খান।

এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া শাস্তি বহাল রয়েছে। ইতিমধ্যে সাজা ভোগ করে ওসমান গনি মুক্তি পেয়েছেন। সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে লিভ টু আপিল করা হয়েছিল।

সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৯ মে ওসমান গনির উত্তরার বাসায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা, ১৩০০ ডলার, ৩ হাজর মালয়েশিয়ান রিংগিট ও প্রচুর স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে।

তার বিছানার তোশক, বালিশ, চালের ড্রাম, স্টোররুমে রাখা ট্রাঙ্ক ও স্টিল আলমারির গোপন কুঠুরিতে এসব মুদ্রা পাওয়া যায়। স্বর্ণালংকারগুলো পাওয়া যায় স্টোররুমে স্তুপ করে রাখা খবরের কাগজের আড়ালে। ঘটনাটি সে সময় সারা দেশে আলোড়ন তোলে। মানুষের কাছে ওসমান গণি পরিচিতি পান ‘বনখেকো’ নামে।

এরপর ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওসমান গনি তার ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এছাড়া কমিশনে দাখিল করা সম্পত্তির হিসাব বিবরণীতে এক কোটি দুই লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন ওসমান গনিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওসমান গনি।

২০০৭ সাল থেকে কারাগারে কাটানো সাবেক এই বন কর্মকর্তা ‘ভালো আচরণের’ কারণে দণ্ড রেয়াত পেয়ে ২০১৬ সালে মুক্তি পান।