শুল্ক চাপে চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কবলে পড়ে চীনের একটি কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ঝুঝাউ জিনইউয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনী নিয়ে গঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে জমি নেওয়ার জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে।

কোম্পানিটি বেজাকে জানিয়েছে, তারা আগামী মাসে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করবে। জুনে উৎপাদনে যাবে। তাদের নেওয়া জমির পরিমাণ ১০ একর। বিনিয়োগের লক্ষ্য ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩৫ কোটি টাকা। জমি নিতে ইতিমধ্যে বেজাকে ৫০ বছরের ইজারামূল্য বাবদ প্রায় ১২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে তারা।

কোম্পানিটি গত সেপ্টেম্বরে প্রথম বাংলাদেশে আসে। এত দ্রুত কারখানা করার কারণ জানতে চাইলে বেজা সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনা রাসায়নিকের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বিপাকে পড়েছে। এ কারণেই দ্রুত বাংলাদেশে কারখানা করতে চায় তারা।

ঝুঝাউ জিনইউয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার জমি বরাদ্দের চুক্তি করে বেজা। আগের দিন কোম্পানি জমির ইজারামূল্য পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এটি হবে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ। পাশাপাশি তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হবে।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে জমি বরাদ্দের জন্য ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে আবেদন নেওয়া শুরু করে বেজা। ইতিমধ্যে সেখানে বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। বেজা ইতিমধ্যে সেখানে কারখানা করার জন্য চার হাজার একরের মতো জমি বরাদ্দ দিয়েছে। মোট প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৫৬টি। এর মধ্যে জমি পেয়েছে ৩৯টি। এসব কোম্পানি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে গত মাসে কারখানা করার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে আরমান হক ডেনিম নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা ১০ একর জমিতে ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা করবে।

ঝুঝাউ জিনইউয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। বেজাকে তারা জানিয়েছে, তাদের মূল বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তারা লেড অক্সাইড, লেড নাইট্রেট, কপার সালফেটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উৎপাদন করে। বাংলাদেশে কারখানা করলে তারা ৫০ শতাংশ স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে। কোম্পানিটি প্রতি বর্গমিটার জমি ৫০ বছরের জন্য ৩০ ডলারে ইজারা পেয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোতে পারলে ঝুঝাউ জিনইউয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি হবে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে উৎপাদনে যাওয়া প্রথম কারখানা। বেজা আশা করছে, আগামী দুই বছরে সেখানে বেশ কিছু কারখানা উৎপাদনে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হবে পূর্ণাঙ্গ শিল্পশহর। এতে কারখানার পাশাপাশি আবাসন, বিনোদন ও অন্যান্য সেবা থাকবে। মিরসরাইয়ে এখন ভূমি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি দেবে সরকার। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা একটি বন্দর থাকবে, যেটি দিয়ে সহজেই চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরণি নামে চার লেনের একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যেটি পরবর্তী সময়ে আট লেন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সংস্থার মধ্যে মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) প্রায় ১ হাজার ৫৫ একর জমি দিয়েছে বেজা। ভারতও সেখানে ১ হাজার একর জমি নিচ্ছে। এই জমিতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা জমি পেতে আবেদন করেছেন।