সহযোদ্ধাদের চোখে সৈয়দ আশরাফ যেমন ছিলেন

বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দদ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুযারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ বরেন । তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭১স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর এই সদস্য।

২০০৭ সালে ১/১১ সরকারের সময়ে যখন আব্দুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে না থেকেও তিনি বিপুল ভোটে  কিশোরগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচিত হন এই জননন্দিত এই নেতা। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ শোক জানিয়ে বলেন- “নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেভাবে নির্লোভ ও সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। সাধাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত সৈয়দ আশরাফ ছিলেন নির্লোভ ও নিরহংকারী। নেত্রী ও দলের প্রতিও তিনি ছিলেন অবিচল। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করে তার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত করেছিলেন সৈয়দ আশরাফ।” সৈয়দ আশরাফ যখন দলের সাধারণ সম্পাদক হন তখন ওই কমিটিতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি দীর্ঘদিন সৈয়দ আশরাফকে কাছ থেকে দেখারও সুযোগ পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রিয় নেতার প্রতি শোক জানিয়ে বলেন- “সৈয়দ আশরাফের মতো ত্যাগী, বিচক্ষণ, দ‚রদর্শী ও সজ্জন রাজনীতিকের শ‚ন্যতা কখনোই প‚রণ হওয়ার নয়। উনার ব্যক্তিজীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিল না। আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন আশরাফ ভাইয়ের ভ‚মিকা ছিল অনন্য। বাংলাদেশের মানুষ এমন একজন রাজনীতিককে অনেক দিন মনে রাখবে।”

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন- “তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল উন্নত চিন্তার রাজনীতিক। তিনি ছিলেন সততা ও নিষ্ঠার ম‚র্ত প্রতীক। তার রাজনীতির একটা কমিটমেন্ট ছিল, যে কারণে তিনি সত্য বলতে কখনও দ্বিধা করতেন না। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের ইন্টেলেকচুয়াাল জায়ান্ট। মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ছিল অনবদ্য ভ‚মিকা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন- “নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতিকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হয় সৈয়দ আশরাফ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নেতাকর্মীদের প্রতি অন্তঃপ্রাণ ছিলেন তিনি। তার মধ্যে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ দেখিনি। ছোট-বড় সবাইকে সম্মানের চোখে দেখতেন।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন ধরে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
বৃহস্পতিবার নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত থাকতে না পেরে সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ। কিন্তু সহকর্মীদের শপথের দিনেই তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।