বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার অগ্রগতি নেই , আসামিরা জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে

উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের পরেও অগ্রগতি নেই বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়। আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে। কিন্তু তিন বছরে একটি মামলারও তদন্ত শেষ করতে পারেনি দুদক। এই সুযোগে তদন্তে ধীরগতির কারণে জামিনে বের হয়ে যাচ্ছেন আসামিরা। দুদক সচিব বলছেন, অপরাধের মূলে যাওয়ার কারণেই এ সময় লাগছে। দুদক আইনজীবী বলছেন, জামিন ঠেকাতে আইনি লড়াই করছেন তারা। – সময় টেলিভিশন।

তদন্তে গড়িমসির কারণে সর্বশেষ গত ১৮ মে ৫৬ মামলার ৬ তদন্ত কর্মকর্তাকে ডেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান উচ্চ আদালত। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়। আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ও পার হয়েছে অনেক আগে। তবুও তদন্ত ঝুলে আছে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু এবং তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদকে আসামি করা না করা নিয়ে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলছেন, তদন্তে ধীর গতির সুযোগে আসামিদের জামিনে বের হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম-অপরাধের অনেক নথি থাকে ব্যাংক একাউন্ট থাকে সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়। এ কারণে সময় লাগে। আমার মনে হয় তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে, বেশি দিন লাগবে না।

আর দুদক সচিব ড. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন বলেন, এটি বড় অংকের দুর্নীতির মামলা আইনে যতটুকু সময় দেয়া আছে ততটুকু লাগছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এটির গভীরে গেছে তাই সময় লাগছে।

ঋণ কেলেঙ্কারির মত অপরাধের আসামিরা ছাড়া পেলে ব্যাংকিং খাত আরো অপরাধপ্রবণ হওয়ার আশঙ্কা  করছেন অর্থনীতিবিদ ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াতে যদি দীর্ঘসূত্রিতা থাকে তাহলে আরো বেশি অপরাধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।’ ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফেরাতে ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।