শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত, কারখানা বন্ধ

নিউজ ডেস্ক: নতুন ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, হেমায়েতপুর, উলাইল, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক, বিশমাইল-জিরাবো সড়ক, কাঠগড়া, আশুলিয়া, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবোসহ প্রায় ১৫টি স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটে।

আশুলিয়ার প্রায় ২৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ হেমায়েতপুরে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও ডার্ড লি. নামের দুটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মোতায়েন করা হয় দুই প্লাটুন বিজিবি।

শিল্প পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ঘোষিত মজুরী কাঠামোতে বৈষম্য করা হয়েছে, এমন অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরেই তা সংশোধনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

একই দাবিতে আশুলিয়ার কাঠগড়া, আমতলা, জামগড়া, নরসিংহপুর, ঘোষবাগ, নিশ্চিন্তপুর, সরকার মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ শ্রমিকদের উপর টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকার বেশকিছু কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান বিক্ষোভে মঙ্গলবার শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মো. সুমন খাঁ (২৩) নামে আনলিমা ডাইং লি. এর এক শ্রমিক নিহত হয়।