গণতন্ত্রের বারোটা বাজালো আওয়ামী লীগ

সুমন দত্ত

গণতন্ত্রের চর্চা সেই দেশে হয় যার নেতা নেত্রীরা গণতান্ত্রিক আচরণ প্রদর্শন করেন। একটি দেশের গণতন্ত্র তখনই প্রতিষ্ঠা পায় যখন এর অঙ্গগুলো স্বাধীন হয়। প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে তিনটি অঙ্গ থাকে। ১. নির্বাহী বিভাগ ২. বিচার বিভাগ ৩. আইন বিভাগ। যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানে এই তিন বিভাগের স্বাধীনতা দেয়া থাকে। এই তিন বিভাগ কেউ কারো বড় নয়, আবার কেউ কারো ছোট নয়। নিজেদের আইন সিদ্ধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই তিন বিভাগ শাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য ঠিক রাখে।

বাংলাদেশে আজ যেটা হচ্ছে সেটা গণতন্ত্রের নামে মশকরা। এখানে গড়ে উঠছে স্বৈরতন্ত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বংশতন্ত্র। গণ প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ হয়ে গেছে স্বৈর ও বংশতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যার ফলে এখানকার রাজনীতিতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে না। উল্টো গণতন্ত্র কলুষিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছেড়েছে শাসক আওয়ামী লীগ। যা শুরু করেছিল আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাক ও জিয়া-এরশাদ। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। জিয়া এরশাদ হচ্ছে সামরিক স্বৈরাচার। আর শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া ছিল বংশতান্ত্রিক স্বৈরাচার। কারণ বংশের দোহাই দিয়ে এরা রাজনীতিতে এসে এই পেশার বারোটা বাজিয়েছে।

ভাবতে অবাক লাগে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যে দলটি উদ্যোগী ভূমিকা নেয় আজ সেই দলের অধঃপতন দেখে। কালের বিবর্তনে আওয়ামী লীগ আজ বংশতান্ত্রিক স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে দেশ শাসন করছে শেখ হাসিনা। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যার পিতা ও পরিবার জীবন দিয়েছে। সেই তিনি কেড়ে নিলেন দেশের মানুষের ভোট দেবার অধিকার। যেটা এক সময় মোস্তাক জিয়া এরশাদ করেছিল। বাপের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাতিল করে মোস্তাক জিয়া এরশাদের চেতনা ধারণ করলেন তিনি। সেটাই দেশ বাসী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চেয়ে চেয়ে দেখল।

নির্বাচনে শেখ হাসিনা যেভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করলেন, সেটা ছিল নজির বিহীন। বাংলাদেশের বিরোধী মতকে জীবিত দাফন করলেন তিনি। এ কাজ করে তিনি হয়ত বিদেশিদের মন জয় করলেন। বিপরীতে হারালেন এদেশের জনগণের বিশ্বাস। গুটিকয়েক উচ্ছিষ্ট ভোগী সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী ও সুশীলরা হয়ত তার এই জয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে নাচবে। তাতে কার কি আসে যায়। অথচ শেখ হাসিনা পারতেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। তাতে এদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটত। নির্বাচিত সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় এই বিশ্বাস জনগণের মধ্যে আসত।

শাসক আওয়ামী লীগ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে যে, আজ সেই চেতনাকে জিততে হয় জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে। তার সরকারের মহা দুর্নীতিবাজগুলো তাকে এই অবস্থায় দাড় করিয়ে দিয়েছে। অর্থ কেলেঙ্কারি গুলোর বিচার না হওয়া, মাদকের রম রমা ব্যবসা, বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করা, জনগণের জীবন মানের খরচ বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে যেতে যারা কাজ করেছে তাদেরই উত্তরসূরিদের হাতে আবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লুটপাটের। একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা নিজেকে একজন ঠগবাজ নারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন। আগামীতে চাইলেও তার সঙ্গে দেশের কোনো রাজনীতি বিদ বৈঠক করতে চাইবে না। তখন তারা চাইবে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করে কীভাবে আলোচনা করা যায়।

আজ বলা হয় বিএনপি জঙ্গি তালেবান আইএসআই। বিএনপি আজ সত্যি সত্যি জঙ্গি তালেবানে পরিণত হবে। কারণ দেশে যখন বিরোধী পক্ষের রাজনীতি রাষ্ট্রযন্ত্রের সাহায্যে পিষে ফেলা হয়। তখন সেই রাজনীতি চরমপন্থার দিকে ধাবিত হয়। আজ পাকিস্তানে যেমন চরমপন্থার রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে আজ সেই প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিল শেখ হাসিনা। আর এই চরমপন্থি রাজনীতির শিকার হবে দেশের জনগণ ও প্রতিবেশীরা। ধরুন জামাতি জঙ্গিরা যদি ২০১৪ সালের মত পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন আরেক দল জনগণের ওপর পেট্রোল বোমা মারবে। আর এই উসিলায় বিএনপির নেতা কর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে গা বাঁচাবে শাসক আওয়ামী লীগ।

লেখক সাংবাদিক