ফিরে দেখা-২০১৮: ওয়াই.এস.এস.ই এর সাফল্যগাথাঁ

একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক মূল্য সৃষ্টির জন্য সামাজিক উদ্যোগের প্রসার ঘটাতে “ওয়াই.এস.এস.ই” তাদের ব্যপ্তি বাড়াতে দৃঢ় প্রত্যয়ী। দেশের প্রতিয়মান বেকারত্ব ও নানা সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যুব ও নারী সমাজের ক্ষমতায়নের জন্য সামাজিক উদ্যোক্তার বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিনিয়ত ফলপ্রসূ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সংগঠনটি। অর্থায়ন, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং-এর সহ আরো নানাবিধ উদ্যোক্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উক্ত যুববান্ধব সংগঠনটি।

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ২৩টি দেশে একইভাবে বর্তমান ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের নিয়ে কর্মকান্ড বিস্তৃত করেছে “ওয়াই.এস.এস.ই”। বছরের শুরুর দিকেই ৩০০ জন অংশগ্রহণকারীকে ওয়াই.এস.এস.ই আয়োজন করে দেশের প্রথম “স্যোসাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ সামিট”। এখানে কূটনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, সফল ও উদীয়মান উদ্যোক্তাগণের মধ্যে একটি সুন্দর যোগাযোগের প্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয় ওয়াই.এস.এস.ই। দেশের তরুণ সমাজের শিক্ষার্থীবৃন্দের একটি বড় অংশ এই আয়োজনের। অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণা ও শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোক্তা সম্পর্কিত পরিষ্কার ধারণা পায়।

এর ঠিক এক মাস পরেই “শেপ ইউর ক্যারিয়ার” শিরোনামে একটি ক্যারিয়ার সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়। ওয়াই.এস.এস.ই এর সাথে সম্পৃক্ত সদস্যরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহায়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পান এই আয়োজনের মাধ্যমে। প্রায় ৫০০ জনেরও বেশী ওয়াই.এস.এস.ই সদস্যদের জন্য “ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম” এর আওয়তায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করা হয়। বছরের শেষের দিকে ওয়াই.এস.এস.ই সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে ফেসবুক টক শো “বিহাইন্ড দ্যা জার্নি” এর যাত্রা শুরু করে।

ওয়াই.এস.এস.ই-এর অন্যতম সফল আয়োজন ছিল “বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম”। ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর সমন্বয়ে একটি ব্যাপক ফলফ্রসূ আয়োজন ছিল এটি। দেশের উদ্যোক্তাপ্রবণ তরুণ শিক্ষার্থী ও হবু উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়ায় ফেলে এই আয়োজন। অনলাইনে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে বার্তা পৌছে দিতে সক্ষম হয় ওয়াই.এস.এস.ই।

বিজয়ের মাসে আমরা আয়োজন করি “ইয়ুথ পলিসি ডায়লগ-২০১৮”। যেখানে উপস্থিত ছিলেন নীতি নির্ধারকগণ, ব্যবসায়ী, নতুন উদ্যোক্ত ও বিভিন্ন উদ্যোক্তা সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশের সাথে সম্পর্কযুক্ত সকলের মধ্যে একটা মেলবন্ধর তৈরি করা হয়। উদ্যোক্তারা তাদের সুযোগ, সুবিধা জানতে পারেন অপরপক্ষ তাদের সমস্যাগুলোর উপস্থি সমাধান জেনে নিতে সক্ষম হন।

ওয়াই.এস.এস.ই এর চলমান কিছু প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ওয়াই.এস.এস.ই শপ, ওয়াই.এস.এস.ই ব্লগ ও “বিহাইন্ড দ্যা জার্নি” ফেসবুক টকশো। সামনের দিনগুলোতে উদ্যোক্তাদের একীভূত করতে আরো কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে ওয়াই.এস.এস.ই। প্রথমবারের মতো “স্যোসিওপ্রেনার” নামক একটি উদ্যোক্তা বান্ধব ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে যাচ্ছে চলতি বছরের (২০১৯ সালের) প্রথম ভাগেই। ওয়াই.এস.এস.ই-এর সরাসরি তত্ত্বাবধায়নেই ৩৫ জন উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়কে গড়ে তুলেছেন। সেইসব উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি ওয়াই.এস.এস.ই উদ্যোক্তা মেলা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে ইতোমধ্যেই।

প্রথাগত চিন্তাভাবনার জগৎ থেকে ধীরে ধীরে আমরা বেরিয়ে আসছি। ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের জন্য এটি বেশ শুভলক্ষণ। আমরা নিত্যনতুন সমস্যায় পড়ছি আর যুব ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সেগুলো হতে বেরিয়ে আসার পন্থা উদ্ভব হচ্ছে। এইসব যুব ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনগুলো যে খুব দ্রুতই সম্ভব হচ্ছে তা মোটেই নয়। তবে ওয়াই.এস.এস.ই এর পেছনের সমর্থনশক্তি হিসেবে সবসময় পাশে থাকতে চায়। ওয়াই.এস.এস.ই-এর আজকের এই সফলতা পেছনে আন্তরিক ভাবে মেধা, শ্রম ও সময় দিয়ে পাশে ছিলে পরিষদ সদস্যগণ, উপদেষ্টাগণ, পরামর্শকগণ, যুব প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণার্থী স্বেচ্ছাসেবী, সদস্য ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী। সকলকে পাশেই নিয়ে নতুন বছরটিকে আরো উদ্যোক্তা বান্ধব ও সাফল্যমন্ডিত করতে চায় ওয়াই.এস.এস.ই।