নতুন মন্ত্রীসভার শপথ সোমবার

রওশন ঝুনু, বিশেষ সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৬ সদস্যের প্রস্তাবিত নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ সোমবার। আগামীকাল ৭ জানুয়ারি বিকেলে সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রস্তাবিত নবগঠিত মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সচিব শফিউল আলম এই নতুন মন্ত্রীসভার প্রস্তাবিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করলো আওয়ামী লীগ। গত ৩ জানুয়ারি বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে চমকিত নতুন মন্ত্রীপরিষদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৭ সদস্যের মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন বেশ ক’জন নতুন তরুণ মুখ। বাদ পড়লেন হেভিওয়েট পুরাতন প্রার্থীরা। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শরিক দলের কেউই মন্ত্রিসভায় জায়গা করতে পারেননি এবার।

পূর্ণ মন্ত্রী হলেন যাঁরা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। অপিরিবর্তিত আছেন, আ ক মোজাম্মেল হক: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওবায়দুল কাদের: সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইয়াফেস উসমান: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এছাড়াও মোস্তফা জব্বার পুনরায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া, পূর্ণ মন্ত্রী নতুন মুখের তালিকায় রয়েছেন, মো. আব্দুর রাজ্জাক: কৃষি মন্ত্রণালয়, মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ: তথ্য মন্ত্রণালয়, আনিসুল হক: আইন বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয়, আহম মুস্তফা কামাল: অর্থ মন্ত্রণালয়, মো. তাজুল ইসলাম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ডা. দীপু মনি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এ. কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এম এ মান্নান: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন: শিল্প মন্ত্রণালয়, গোলাম দস্তগির গাজী: বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়, জাহিদ মালিক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সাধন চন্দ্র মজুমদার: খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিপু মুনসি: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নুরুজ্জামান আহমেদ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণাল, শ ম রেজাউল করিম: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মো. শাহাবুদ্দীন: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বীর বাহাদুর উশেশিং: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী: ভূমি মন্ত্রণালয় এবং মো. নুরুল ইসলাম সুজন: রেলপথ মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী হলেন যাঁরা: কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প মন্ত্রণালয়), ইমরান আহমেদ (প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়), জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), নসরুল হামিদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), আশরাফ আলী খান খসরু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়), মন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম মন্ত্রণালয়), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ), জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়), স্বপন ভট্টাচার্য (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়), জাহিদ ফারুক (পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়), মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), শরীফ আহমেদ (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়), কে এম খালিদ (সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়), এনামুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়), মাহবুব আলী (বিমান মন্ত্রণালয়), শেখ মো. আবদুল্লাহ—টেকনোক্র্যাট (ধর্ম মন্ত্রণালয়)।

৩ জন উপমন্ত্রী হলেন, হাবিবুন নাহার (পরিবেশ), এ কে এম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ) এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা)।