জন্মস্থান ময়মনসিংহে সৈয়দ আশরাফের জানাজায় শোকার্ত লাখো মুসল্লীর ঢল

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :
জন্মস্থান ময়মনসিংহে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তৃতীয় জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মেছিলেন। শৈশব-কৈশোর-যৌবন কাল সবই কেটেছে যেখানে, গতকাল দুপুরে সেখান থেকেই স্বজন, সহপাঠী, সহকর্মী, ভক্তসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত ফুলেল শুভেচ্ছায় চির বিদায় জানালেন নির্মোহ, বিলাসিতাহীন সাদা মনের কিংবদন্তি রাজনীতিক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। তার শোকে এখন গোটা ময়মনসিংহেই মূহ্যমান। বিষন্নতায় ভরে গেছে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখ।


রবিবার (৬ জানুয়ারী) দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে কেন্দ্রিয় আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানের জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানাজায় ইমামতি করেন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ এসে পৌঁছে। আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজার আগে পুলিশ বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী জানাজায় শরীক হন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল, ড. সৈয়দ মুনজুরুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের লাশের সঙ্গে এসেছিলেন।

এছাড়াও ময়মনসিংহে জানায় অংশ নেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় শেষ শ্রদ্ধা জানান অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল এমপি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান, ডিআইজি’র পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা আওয়ামলী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামূল হক টিটু, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম (সিআইপি), মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি ও জয়বাংলা নাগরিক পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন । এছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামারপুর জেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ময়মনসিংহ জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মৃতির শহর। এখন তার অকাল প্রয়াত ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতির শহর পরিণত হয়েছে।
সৈয়দ আশরাফের জন্য দলমত নির্বিশেষে কাঁদছে ময়মনসিংহ। শহরের অলিগলিতে ছেয়ে গেছে তার শোকের পোস্টারে। নিপাট ভদ্র ও বিনয়ী সৈয়দ আশরাফকে হারিয়ে এখন শোকস্তব্ধ গোটা ময়মনসিংহ।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করা নীতিবান সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আদর্শ, সততা ও মানবিক গুণাবলীর কারণেই জনপ্রিয় ছিলেন ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশেই।
সুবিশাল পারিবারিক ঐতিহ্যের অধিকারী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সুবিধাজনক ও দায়িত্বশীল অনেক পদে থেকেও অর্থবিত্ত আর বৈভবের পেছনে ছোটেননি। এই নেতার দৃঢ়তাপূর্ণ ক্যারিশমাটিক কর্মযজ্ঞে নিন্দুকেরাও মোহিত হতেন।