ঐক্যফ্রন্টের সাতজনের কেউ শপথ নিচ্ছেন না

নিউজ ডেস্ক:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাতজনের কেউই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। রবিবার দুপুরে মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের এক বৈঠক এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, জাসদ (রব), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশ নেয়া এই বিরোধী জোটের সূচনীয় পরাজয় হয়।

ঐক্যফ্রন্টের মাত্র সাতজন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই সাতজনের ৫ জন বিএনপি ও দুজন গণফোরামের। বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে শপথ না নেয়ার ঘোষণা দেয়। এ অবস্থায় শনিবার গণফোরামের পক্ষ থেকে শপথ গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আভাস দেন ড. কামাল হোসেন। এর পরদিনই দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ঐক্যফ্রন্টের কারো শপথ না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেদিনেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রহসনের নির্বাচন আবারও প্রমাণ করেছে এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।’

সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ড. কামাল হোসেনের গতকালের বক্তব্যের কথা জানতে চাইলে মন্টু বলেন, ইতিবাচকতা মানে এই নয় যে শপথ নেবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনৈক্য নেই। বরং গত ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের পর জনগণের ভোটের অধিকার এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ আছে এবং থাকবে।

বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।