টাঙ্গাইলে নিলুফা হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণের প্রযুক্তির ফাঁদে ফেলে সখীপুরের লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নিলুফা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফাঁদ পেতে সখীপুর উপজেলার হামিদপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী (২৭) বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানা সদরের বাবলু প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সখীপুর উপজেলা সদরের ৮নং ওয়ার্ডের জেলখানা মোড় সংলগ্ন জনৈক আব্দুল হামিদের ভাড়াটিয়া বাসার একটি কক্ষ থেকে গত ২৮ অক্টোবর গৃহবধূ নিলুফা আক্তারের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিলুফা আক্তারের বাবা সরুজ আলী বাদি হয়ে জাহাঙ্গীর আলম মেহেদীর নাম উল্লেখ করে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে সখীপুর থানার এসআই মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ মামলাটি তদন্ত করেন। পরে মামলাটি লৌমহর্ষক ও চাঞ্জল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ওই হত্যাকান্ডের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজে মামলাটি তদন্তের বিষয়ে মনিটরিং করেন। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সখিপুর সার্কেল) মো. মোহসিন, ও সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমির হোসেনের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সখিপুর থানা পুলিশের বিশেষ টিম ও টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) দক্ষ ও চৌকশ কনস্টেবল মো. শামসুজ্জামানের সহযোগিতায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্র্রযুক্তিগত কলা-কৌশল অবলম্বন ও বিভিন্ন ছদ্দবেশধারণ করে গভীর ভাবে তদন্ত করা হয়। পরে চৌকশ কনস্টেবল মো. শামসুজ্জামান মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য নিজেদের প্রযুক্তিতে ফাঁদ পাতেন। বুধবার গভীর রাতে পুলিশের পাতা ফাঁদে আটকা পড়েন আসামি জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি জাহাঙ্গীর আলম মেহেদীকে আদালতে উপস্থিত করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে তিনি জানান, নিলুফা আক্তার তার স্ত্রী। জনৈক ফারুকের সাথে তার স্ত্রীর পরকীয়া চলছিল। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। ওই কলহের জের ধরে তিনি গলা টিপে শ্বাসরোধে নিলুফা আক্তারকে খুন করে তিনি গোপণে পালিয়ে যান।