জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ, সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সম্পদ বানানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করতে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা আজকে ক্ষমতায় আছি। তবে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই ক্ষমতাকে কেউ নিজের সম্পদ মনে করবেন না।’

সবাইকে সমান চোখে দেখতে দলীয় এমপিদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘কে নৌকায় ভোট দিল, কে দিল না, সেটা বিবেচ্য নয়। আমরা সবার উন্নয়ন করব।’

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত এমপিদের শপথগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলার সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

বৈঠকে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতভাবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে টানা তৃতীয়বারসহ মোট চারবার সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেন তিনি, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। ২০০৯ সালের নবম এবং ২০১৪ সালের দশম সংসদের সংসদ নেতা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে গঠিত সপ্তম সংসদেও একই ভূমিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা।

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সাংসদরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকাল ১১টার দিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে শপথ নেন। শপথের পর সংসদ ভবনেই আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক বসে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এই বৈঠক চলে।

বৈঠকের শুরুতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সমর্থন করেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ সময় সকল সংসদ সদস্য সমস্বরে দলীয়প্রধানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেন।

বৈঠক শেষে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি সংসদ নেতা হিসেবে অত্যন্ত সফল।

বৈঠকসূত্র আরও জানিয়েছে, সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চতুর্থবারের মতো সংসদীয় দলের নেতা হলাম। তবে এটাই যেন শেষ হয়। আশা করি আগামী দিনে আপনারা নতুন নেতা বেছে নেবেন।’

শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যে জোরালো আপত্তি জানিয়ে এমপিরা বলেন, ‘আপনি আমাদের নেতা, বাংলাদেশের নেতা, বিশ্বের নেতা। যতদিন আপনি বেঁচে থাকবেন, ততদিনই আপনি দল ও সংসদের নেতা হিসেবেই থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতা ও সম্পদ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি আমার ছেলেমেয়েদেরও বলেছি, তোমরা লেখাপড়া করে মানুষ হবে। এটাই তোমাদের কাজ। আমি আশা করি, দলের এমপিরাও ক্ষমতাকে সম্পদ বানানোর উৎস হিসেবে ব্যবহার করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ, সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। উন্নয়নের মাধ্যমেই সেই ঋণ পরিশোধ করা হবে।’

দলীয় এমপিদের সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ যদি সঙ্গে থাকে কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ যে, আপনারা জনগণের মাঝে থাকবেন, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবেন। জনগণের জন্য কাজ করে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। নির্বাচনের আগে যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছেন, এখন শপথ নেওয়ার পরও সেভাবেই যাবেন। সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে ভবিষ্যতে হারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এটা অব্যাহত থাকবে।’

এবারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। নির্বাচন নয়, যেন মনোনয়ন বাণিজ্য করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। এ কারণেই তারা ডুবেছে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে মানুষ বিএনপির অতীত দুর্নীতি ও সাম্প্র্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সেই অবস্থা আর নেই। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভালোবাসেন, পাশে আছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। নির্বাচনের ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখবেন ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আমাদের প্রত্যেকের নামে মামলা করতে পারে। এসব মামলা মোকাবেলা করতে হবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জেড,আই