নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা

নিউজ ডেস্ক:  পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দেবে জোটটি। আজ বিকাল ৩টায় তারা ইসিতে যাবেন বলে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা অনেকেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। তাদের নিয়ে বৈঠক করবেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

এদিকে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও কি কর্মসূচি দেওয়া হবে তা নিয়ে গতকাল পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি নেতারা। তারা বলছেন, আজ বৃহস্পতিবার কর্মসূচি ঘোষণা করতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠক হওয়ার পরেই জানা যাবে- ফ্রন্টের কর্মসূচির কথা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি এ নির্বাচনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তাতেও সফল না হলে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তবে কি কর্মসূচি দেওয়া হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছন নেতারা।

এমনকি ইসিতে যে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা নিয়েও বিএনপি নেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ একপক্ষ মনে করে স্মারকলিপি দিয়ে কি হবে? মওদুদ বলেন, এখন স্মারকলিপি দিয়ে কিছুই হবে না। যে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষমতার পরিচয় দেয়নি, সেই নির্বাচন কমিশন এখন কী করবে। এ ধরনের কর্মসূচি নির্বাচনের আগেই করতে হতো। এখন করলে ফলপ্রসূ কিছু হবে বলে মনে হয় না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, দলের সামগ্রিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। বিভেদ তৈরি হচ্ছে, সেই সঙ্গে সমন্বয়হীনতা আছে। কর্মসূচি নিয়ে দলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ঐক্যফ্রন্টই সিদ্ধান্ত নিবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আপাতত ঐক্যফ্রন্টের একটাই কর্মসূচি, সেটি হচ্ছে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া। এটি ছাড়া এখনও কোনো কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে জানানো হবে।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পরদিন সোমবার জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আপাতত কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মূলত বৈঠকটিতে আলোচনা হয় নির্বাচনে জয়লাভ করা ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ নিয়ে। বৈঠকে সব নেতাই শপথ পাঠের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই এমপি চান শপথ নিতে।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জয়ী গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য মানুষের আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন। ঢাকায় সবার সঙ্গে কথা হবে। তারপর সবকিছু বলতে পারব। তবে সূত্র জানিয়েছে, শপথ গ্রহণের পক্ষেই সুলতান মনসুর।

অন্যদিকে সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের নির্বাচিত প্রার্থী মোকাব্বির খান বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মতামত সংগ্রহ করেছি। তারা আমাকে তাদের সিদ্ধান্ত এবং পরামর্শ জানিয়েছেন। এখন আমি আমার পার্টি গণফোরামের মিটিংয়ে তা উপস্থাপন করব। এরপর গণফোরাম যে সিদ্ধান্ত নিবে তা ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে জানানো হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে সকলের সম্মিলিত মতামতে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই হবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা জানান, আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।