ইতিহাস গড়ে বিজয়ী হলেন জাতীয় নেতা সুলতান মনসুর

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার-২ আসন (কুলাউড়া)-এ ১৯৯৬ এর নির্বাচন ছাড়া কোন জাতীয় নির্বাচ‌নে ধা‌নের শীষ প্র‌তিক বিজয়ী হতে পা‌রে‌নি। একাদশ জাতীয় নির্বাচ‌নে ধা‌নের শী‌ষের এই বিজ‌য় এনে দি‌লেন জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের অন্যতম শীর্ষ‌নেতা, সা‌বেক ডাকসু ভি‌পি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।

মৌলভীবাজার-২ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মোট ৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে সুলতান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট ও নৌকা নিয়ে এমএম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতি নির্বাচনে চমক থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দলীয় প্রতীকের চেয়ে এখানে সবসময় এগিয়ে থাকে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা।

১৯৯৬ সালে সুলতান মনসুর নৌকা প্রতীক নিয়ে এখান থেকে এমপি হয়েছিলেন, যা ছিল নৌকার সর্বশেষ জয়। এরপর কখনও জয় পায়নি নৌকা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে প্রথম নির্বাচনে আসে বিএনপি। সে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে সৈয়দ আকমল হোসেন তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান নির্বাচনে আসলেও মাত্র পাঁচ হাজার ভোট পেয়ে জামানত হারান।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবেদ রাজা বলেন, সুলতান মনসুরের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে যে গণজোয়ার সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল যার কারণে এত কারচুপির পরেও সুলতানকে আটকানো যায়নি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা অবস্থায় সংখ্যালঘুদের ভোট বার বার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন সুলতান মনসুর, যার বিশাল একটি অংশ এবার মনসুর পেয়েছেন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের কারণে।

এ বিষয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, আমি জনগণের ওপর আস্থাশীল ছিলাম। আমার বিশ্বাস, সব দলের লোক আমাকে ভোট দিয়েছে কারণ, আমি কেমন মানুষ এ এলাকার প্রতিটি মানুষ জানে। এত কারচুপি না হলে ভোটের ব্যবধান ৭০-৮০ হাজার হত।

তিনি বলেন, মুজিব কোর্ট গায়ে দিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেই এমপি হয়েছি, আজীবন তাই থাকব।