সারাদেশে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

রওশন ঝুনু, বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশে আড়াই লক্ষ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ৩শ’ আসনের জন্য ৩২১ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। যারা সারাদেশে ৪০ হাজার ১৮৩টি নির্বাচনী ভোট কেন্দ্রের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ্য পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। পাশাপাশি পোলিং এজন্টদের জন্য ৯ লক্ষ নির্দেশিকা ও চেকলিস্ট তৈরি ও বিতরেণের কাজও চলছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৫টি উপকমিটি করা তৈরী করেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, ‘পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপকমিটি’। গত দুই মাস ধরে এই কমিটি নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সারাদেশে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কমিটির সদস্য সচিব দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ‘ঢাকানিউজ24’কে জানান।

তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর পক্ষে যেহেতু সবগুলো বুথ পরিদর্শন করা কিংবা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়, তাই প্রতিটি বুথে প্রতিটি পোলিং এজেন্ট প্রার্থীর পক্ষে নজরদারি করবেন। সেই দায়িত্ব পালনের বিষয়েই তাদেরকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক পোলিং এজেন্ট ইসি অনুমোদিত বৈধ্য প্রতিনিধি হিসেবে ভোটকেন্দ্রে প্রতিনিধিত্ব করবে। তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ, জাল ভোট, জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারা, ব্যালট ছিনতাই কিংবা যেকোনো অবৈধ্য ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সজাগ থাকবে এবং তা প্রার্থী ও দলকে দ্রুত অবহিত করবেন।

এই মূহুর্তে নৌকাকে বিজয়ী করাই আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একমাত্র প্রধান কাজ। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও নৌকার বিজয়ে সব ধরণের সহযোগিতার জন্যই এই মাস্টার ট্রেইনার এবং ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাস্টার ট্রেইনারদের মধ্যে শতকরা ৬৫জনই নারী ট্রেইনার রয়েছেন বলৈ সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের দায়িত্বশীল ও নিবেদিত নেতৃবৃন্দকে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দল মনোনীত করেছে ।
সচিব বলেন, একজন পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তিনি জাল ভোটারসহ সব রকম অনিয়ম, অসততা সনাক্তকরণসহ প্রতিপক্ষের অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা যদি সংগঠিত হয়, সে সম্পর্কেও সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রার্থী ও দলকে অবহিত করবেন। এছাড়াও নির্বাচনী কার্যক্রমে নিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কিনা, পোলিং এজেন্ট সে বিষয়েও প্রার্থী ও দলকে জানাবেন।

প্রতি ৫শ’ ভোটারের জন্য একটি করে বুথ থাকবে। প্রতি বুথে ১জন করে পোলিং এজেন্ট থাকবেন। পোলিং এজেন্টরা নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীর মনোনীতি প্রতিনিধি। একজন পোলিং এজেন্ট, ভোটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বুথে উপস্থিত থাকবেন এবং ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফলের কপি নিয়ে আসবেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ধানমণ্ডি ৩/এ থেকে এই পরিচালিত পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী।