মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাবলু, জিন্নাহ কবীর আটক

জেলা প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর মানিকগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তার বিরুদ্ধে করা নাশকতার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। অপরদিকে জেলার শিবালয়-ঘিওর-দৌলতপুর নিয়ে গঠিত এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি এসএ জিন্নাহ কবীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করে। জিন্নাহ কবীর প্রার্থী হওয়াতে নির্বাচনী এলাকায় বিএনপিসহ শরিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে প্রচারনা শুরু করে।

গায়েবি মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি উপেক্ষা করেও নেতাকর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার প্রচারণা, গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছিলেন। সব মিলিয়ে এ আসনে বিএনপি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এটা প্রায় নিশ্চিত ভেবেই মাঠে ছিল ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীরা। কিন্তু আদালত কর্তৃক দলীয় প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীরকে বাদ দিয়ে মরহুম মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র অ্যাড. আব্দুল হামিদ ডাবলুকে ধানের শীষে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

ডাবলু হাইকোর্টে রিট করার পরই দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে ডাবলুর পক্ষে কাউকেই এখনো পর্যন্ত মাঠে দেখা যায়নি।

জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম চান বলেন, ডাবলু দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের নিশ্চিত বিজয়ের আসনটি হাত ছাড়া করানোর জন্যেই দলীয় সিন্ধান্তের বিরোধীতা করে একটা খারাপ পরিবেশ তৈরি করেছেন। জিন্নাহ কবীরের বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিন্নাহ কবীর সব সময় নেতাকর্মীদের সাথেই ছিল এবং আছেন।এই বিপদের সময়ে আমরা ডাবলুর ছায়াও দেখি নাই। আমরা তার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দলীয় সিন্ধান্ত চাই।

এই আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সাংগঠনকি সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ কবীর জিন্নাহ’র হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপীল চেম্বার আদালত খারিজ করলে ডাবলুর মনোনয়ন বৈধ হয়।

উল্লেখ্য, কৌশলগত কারণে এই আসনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় ৩ জন প্রার্থীকে। এই দুইজন ছাড়াও অন্য প্রার্থী হলেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না মর্মে হাইকোর্টের আদেশে বাতিল হয় তোজাম্মেল হক তোজার মনোনয়ন। চূড়ান্ত মনোনয়নের দৌড়ে থেকে যায় এস এ কবীর জিন্নাহ এবং অ্যাডভোকেট খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু।

কিন্তু বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষরিত পত্রে এই দুইজনকেই চুড়ান্ত মনোনয়ন দিলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মহাসচিবের সাথে কথা বলে বৈধ প্রার্থী হিসেবে এস এ কবীর জিন্নাহকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং নিজেকে বৈধ প্রার্থী দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু। আদালত তার পক্ষে রায় দেন এবং নির্বাচন কমিশনকে তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার আদেশ দেন।

এস এ কবীর জিন্নাহ হাইকোর্টের দেয়া এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করেন। সোমবার সকালে হাইকোর্টের চেম্বার জজ আদালত পূর্বের দেয়া আদেশ বহাল রাখলে মানিকগঞ্জ-১ আসনে অ্যাডভোকেট খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর মনোনয়ন বৈধ হয় এবং তিনি ধানের শীষ প্রতীক পান।

উল্লেখ্য, এই আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক ক্রিকেটার নাইমুর রহমান দূর্জয়। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এবিএম আনোয়ারুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘সিংহ’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা করলেও পরে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে যান।

ফলে মহাজোটের পক্ষ থেকে ‘নৌকা’ প্রতীকে নাইমুর রহমান দূর্জয় এবং ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খোরশেদ আলম ‘হাত পাখা’, মুসলীম লীগের ফারুক হোসেন আসাদ ‘হারিকেন’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোট ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯১জন।

এই আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব পরলোকগত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩ বার সরকার দলীয় এবং একবার বিরোধী দলীয় চীফ হুইফের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবিএম আনোয়ারুল হকের কাছে পরাজিত হন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ক্রিকেটার নাইমুর রহমান দূর্জয়। দলটি থেকে এবারও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।