ত্রিশালে সরকারি নজরুল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মেজবাহ গ্রেফতার, হাজতে প্রেরণ, ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ ব্যুরো :
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুর রহমান গতকাল দুপুরে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। মেজবাহ উদ্দিন ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগেরও যুগ্ম-আহবায়ক। গতকাল সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ৩নং আমলী আদালতে মেজবাহ উদ্দিনকে হাজির করা হলে তাকে জামিন না দিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল হক জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন বলে জানান আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম। এদিকে মেজবাহ উদ্দিন জানান, একটি কুচক্রী মহলের ইন্দনে তাকে ষড়যন্ত্রভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান আরো জানান, ২২ ডিসেম্বর সকালে সরকারি নজরুল একাডেমীর ৬ষ্ট থেকে ৭ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ এক ছাত্রী ভর্তির জন্য স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন সাথে দেখা করেন । এ সময় প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে ভর্তি করতে রাজী হননি। ২৩ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় ওই ছাত্রীর বড় বোন সাবিনা ইয়াসমীন সোমা প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করেন। তাকে স্কুলে ভর্তি না করালে টিসি দেয়ার অনুরোদ করেন সোমা।
এরপূর্বে চলতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর ত্রিশালের কতিপয় যুবক সোমার বোন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে ত্রিশাল থানায় দায়ের করা মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেন এবং সোমার কাছে টিসির জন্য প্রধান শিক্ষক দশ হাজার টাকা দাবী করেন । এছাড়াও নানা কথায় সোমাকে অপমান করেন প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন। এরপর ছোট বোনটি বড়বোনকে সম্ব্রমহানি অপমান সইকে না পারায় মনের কষ্টে ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষ পান করে। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা দ্রত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর অবস্থা এখনো আশংকামুক্ত নয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
এ ঘটনায় ২৩ ডিসেম্বর মধ্যেরাতের পর ত্রিশাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন বড় বোন সোমা। মামলার পর রবিাবর রাতেই প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।
ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মেয়ে সুমা বিউটি পার্লার, কনমেটিকস ফুল বিক্রয় করেন। ৫ বোন ও এক ভাইসহ ৭জনের সংসার চালায় বড়বোন সোমা। এর পাশাপাশি সোমা আনন্দ মোহন কলেজে মাস্টার্সে পড়াশুনা করছে সোমা।
এর আগে চলতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমার বোনকে জোড় করে তুলে নিয়ে গণধর্ষন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা দায়েল করা হয়েছে। এই মামলায় ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা জেল-হাজতে রয়েছে।