আ’লীগে ২২ জন ‘যুদ্ধাপরাধী’ : বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২ ‘যুদ্ধাপরাধীর’ তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ২৩ যুদ্ধাপরাধী বা তাদের পরিবার কোনো না কোনোভাবে ‘৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৩ জনের কথা উল্লেখ করলেও তালিকায় ২২ জনের নাম দেয়া রয়েছে।

রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতা ঘৃণীত ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বনে গিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী, আপনিই তো জামালপুরের নুরু রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছেন। এখনও আপনার দলে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভিড়। জনগণকে প্রতারিত করে প্রধানমন্ত্রী আবারও মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে চলেছেন।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, এমন অভিযোগে এক ডজন ব্যক্তির বিচার করেছে ক্ষমতাসীন সরকার।

‘আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত সপক্ষ শক্তি দাবি করে এ বিচার করলেও তাদের দলে থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নীরব।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর, আলশামস, গণহত্যকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন।

‘এই ব্যক্তিরা তাদের সন্তান-সন্তুতি এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা বা তাদের টিকিটে নির্বাচন করছেন। কিন্তু এখন তারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের এসব ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নাম ও তাদের পরিবারের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন রিজভী।

আওয়ামী লীগের যেসব নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন-

১. অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম

২. লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান

৩. ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

৪. অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন

৫. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

৬. কাজী জাফরউল্লাহ

৭. মুসা বিন শমসের

৮. মির্জা গোলাম কাশেম

৯. এইচএন আশিকুর রহমান

১০. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

১১. মাওলানা নুরুল ইসলাম

১২. মজিবর রহমান হাওলাদার

১৩. আবদুল বারেক হাওলাদার

১৪. আজিজুল হক

১৫. মালেক দাড়িয়া

১৬. মোহন মিয়া

১৭. মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া

১৮. রেজাউল হাওলাদার

১৯. বাহাদুর হাজরা

২০. আ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার

২১. হাসেম সরদার

২২. আবদুল কাইয়ুম মুন্সি।

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতার কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় প্রথম তার নেতৃত্বেই শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসই স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন বিএনপির এ নেতা।

রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কামরুল ইসলাম তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

‘১৯৬৯ সালে এ দেশে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে নেজামে ইসলাম পার্টির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার প্রচার চালানোর জন্য ‘নেজামে ইসলাম’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। হাকিম অজিজুল ইসলাম এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।’

রিজভী আরও বলেন, শেখ মজিবুর রহমানসহ পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে তিনি এ পত্রিকায় ‘ইবলিশের দিনলিপি’ নামে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ সম্পাদকীয় লিখতেন।

তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর মধ্যে দিয়ে রাজাকার পরিবারের গন্ধ হতে মুক্ত হতে চান তিনি। তার ব্যাপারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইসলামী দল’ শীর্ষক বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

‘দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ’ বইয়ের সূত্র দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

রিজভী বলেন, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। কথিত আছে-তিনি শান্তি বাহিনী গঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেন।

‘দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ওই বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে-শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে গত বছরের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওয়্যারক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে।

‘যা গত ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গত ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সেকেন্ড-ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে একজন আস্থাভাজন নেত্রী ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে ৮৮ জনকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার আস্থাভাজন এনএনএ মেম্বার অব ন্যাশনাল এজেন্সি হিসেবে ঘোষণা করে।

‘১৯৭১ সালের ৭ আগস্ট পাকিস্তানের তথ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ওই তালিকায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নাম ছিল ৮৪ নম্বরে। জেনারেল রোয়াদেদ খান ওই দিন ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন জানানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করার সুবাদে তিনি এ খ্যাতি অর্জন করেন বলে জানা গেছে।’

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ আছে বলে জানান তিনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক ‘সহজকথা’ আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফরউল্লাহ স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পূর্ণ সমর্থন দেন।

এ বিষয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেন, শেখ সেলিম যে তার ছেলেকে ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসেরের মেয়েকে বিয়ে করিয়েছেন তার কথা কেউ বলছেন না কেন? এ খবর পরের দিন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে।

‘উল্লেখ্য, মুসা বিন শমসের গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের শ্বশুর। ওয়্যারক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসান যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ৩০৭ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে ফরিদপুর জেলায় গণহত্যাকারী হিসেবে মুসা বিন শমসের নাম রয়েছে।’

তিনি বলেন, জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারদলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা। ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন।

তিনি রাজাকার, আলবদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন।

তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ছিল, যা ‘জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮১ সালের সংস্করণ’ বইয়ে উল্লেখ আছে বলে জানান রিজভী।

বিএনপির এ নেতা বলেন, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচএন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন।

এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

এসএসএম শামসুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠায় পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। আমরা সব রাজাকারের বিচার চাই। মন্ত্রিসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।’

রিজভী আরও বলেন, চাঁদপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত ছিলেন।

‘তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।’

রিজভী বলেন, তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

এ ছাড়া জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে জামালপুর সরিষাবাড়ী এলাকার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন দাবি করেন বিএনপির এ নেতা।

তার নেতৃত্বে রাজাকাররা ওই এলাকায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ‘দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ’ গ্রন্থের ৪৫ পৃষ্ঠায়-এর বিবরণ দেয়া আছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া গত ২৮ এপ্রিল দৈনিক আমাদের সময় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাওলানা নুরুল ইসলামকে সরিষাবাড়ী এলাকার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার সশস্ত্র রাজাকার ছিলেন দাবি করেছে বিএনপি।

রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

‘গোপালগঞ্জের কোটালীপড়ায় ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তার নাম ১ নম্বরে ।

তিনি বলেন, এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগস্ট। দ্বিতীয়বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে তালিকাতেও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তার নাম আছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের পিতা আবদুল বারেক হাওলাদার ও তার ভাই আজিজুল হক কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়ার বাবা মালেক দাড়িয়া কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি ছিলেন আলবদরের একনিষ্ঠ সহযোগী। গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন তিনি।

গোপালগঞ্জ কোটারিপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আমির হোসেনের পিতা মোহন মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া রাজাকার ছিলেন।

তিনি পাকিস্তানিদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের গোপন খবর পাক বাহিনীকে পৌঁছে দিতেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তাদের সবার নাম আছে।

রিজভী আরও বলেন, কোটালীপাড়া পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচএম অহেদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদার, কোটালীপাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র এইচএম অহেদুল ইসলামের পিতা বাহাদুর হাজরা, গোপালগঞ্জের এপিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার ও তার পিতা হাসেম সরদারের নাম গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালীপাড়ার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রয়েছে।

এ ছাড়া জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি অবুল কালাম আজাদের পিতা আবদুল কাইয়ুম মুন্সীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল জামালপুর আমলি আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মালিচর নয়াপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আলী এ মামলা করেন বলে জানান বিএনপির এ নেতা।