তরুণ দম্পতি ও উদ্যোক্তারা ঋণ পাবে : মির্জা ফখরুল

সিনিয়র রিপোর্টার: সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তরুণ দম্পতি ও উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বীর জন্য ২০ বছর মেয়াদে ঋণ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তিন বছরে সরকারি চাকরিতে দুই লাখ মানুষকে চাকরি দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

ইশতেহারে ‘শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ বিষয়ে ১৬টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতা এবং পাঁচ বছর সংসদের বাইরে থাকা দলটি। এর মধ্যে ১৪ নম্বর প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন দম্পতি ও উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য ২০ বছর মেয়াদের ঋণ চালু করা হবে।’ ১৫ নম্বর প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

১৬ নম্বরে বলা হয়েছে, ‘এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। তাদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।’

এছাড়া সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘প্রথম তিন বছরে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে দুই লাখ মানুষকে চাকরি দেয়া হবে’ বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।

‘শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থব্যয় করা হবে’ উল্লেখ করে ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ‘উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

সেই সঙ্গে ‘বিশ্বের মেধা জগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের একটি নতুন মাত্রা যোগের জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিসহ অন্যান্য বিদেশি ভাষা শেখার জন্য অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করা হবে’ বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘স্বল্প আয়ের পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্বল্প সুদের শিক্ষা ঋণ চালু করা হবে। বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবিদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।’
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-সংসদের নির্বাচন নিশ্চিত করে ছাত্রদের মধ্য হতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। তাদের কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ‘সম্মানীভাতা’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি বলছে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ‘সম্মানীভাতা’ চালু করা হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তা প্রতিরোধে সকল প্রকার আইনি, প্রতিকারমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সকল ধরনের ভ্যাট বাতিল করা হবে। ভ্যাটবিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আনিত সকল মামলা প্রত্যাহার এবং এসব আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।’

পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থা বিলোপ করা হবে। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে।’