মঙ্গলবারের মধ্যে সেনা মোতায়েন চান ড. কামাল

নিউজ ডেস্কঃ   ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর ‘ক্ষমতাসীনদের’ হামলার ঘটনায় আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি ১৮ ডিসেম্বরের (মঙ্গলবার) মধ্যে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়েছেন।

রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের প্রচারকালে বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যারা মিছিল করছেন তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে এবং ভোটের প্রচারে নেমে প্রার্থীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসব ঘটনার পরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এটা উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতিতে নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা করছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, আশঙ্কা তো আছেই। জনমত দেখে সরকার বুঝতে পারছে। তাই নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে দেওয়া হবে না। এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার কথা সংবিধানে আছে। যারা নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে, আক্রমণ করে, সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটা হলো সংবিধানের কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালন করার ব্যাপারে ঘাটতি দেখছি। আমরা দেখছি, বিরোধী দলের প্রার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আক্রান্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আর যারা আক্রমণ করছে, তারা বহাল তবিয়তে আছে।

জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আগামী ৩০ তারিখ নির্বাচন। আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। এখন যদি প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ হয়, তাহলে এরপরে কী চালাবে? ট্যাঙ্ক চালাবে, কামান চালাবে? এ কী অবস্থা? পৃথিবী কোথায়, জাতিসংঘ কোথায়, কমনওয়েলথ কোথায়? পাকিস্তান আমলেও এমনটা ঘটেনি।

তিনি বলেন, নোয়াখালীতে মাহবুবউদ্দিন খোকনের ওপর পাঁচটা গুলি করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী রুমানা মাহমুদের ওপর গুলি হয়েছে, ঢাকায় মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস ও সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন আসনে হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা জনগণকে নামতে দেবে না, কর্মীদের নামতে দেবে না, প্রার্থীদের নামতে দেবে না, এটা কী? ভয় দেখালে ভয় পাওয়ার লোক তারা নন।

তিনি বলেন, তারা তাদের কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছেন। বলেছেন, সহনশীল থাকতে হবে, সাহসের সঙ্গে লড়তে হবে। কিন্তু যদি একবার জনগণকে বলি, এই হামলার মোকাবেলা করো, আর জনগণ যদি মোকাবেলা করতে যায়, তাহলে পরিণতি কী হবে সেটা একটু চিন্তা করুন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনে যেসব সহিংসতা হচ্ছে তা সরকারের মদদে করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।