বিজয়ের মাসে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

রওশন ঝুনু, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থেকে: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করে বলেছেন, জাতির পিতা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন, আমার পুরো পরিবার জীবন দিয়েছে, প্রয়োজনে আমিও বুকের রক্ত দিয়ে এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে যাবো। নৌকায় ভোট দেওয়ার শপথ করিয়ে তিনি বলেন, এটা বিজয়ের মাস, নৌকায় ভোট দিয়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, ভাষা পেয়েছি, বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখেছি।

শেখ হানিসা বলেন, আমরা আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি, উন্নয়নের এ যাত্রা অব্যাহতরাখতে নৌকায় ভোট দিন।এ নৌকা মুজিবের নৌকা, এ নৌকা স্বাধীনতার নৌকা, উন্নয়নের নৌকা।নৌকায় ভোট দিয়ে কেউ বঞ্চিত হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের আবার জনগণের সেবা করা সুযোগ দিন, দেশকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ দিন।

তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে। তারা যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকে জড়িয়ে না পড়ে। এজন্য বিশেষ কওে বাবা-মাসহ সকল অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। এ সবের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে মসজিদের ইমামসহ সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনসচেতনায় ভ‚মিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, কোমরপুর, রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাট, পাটুরিয়া ঘাট, মানিকগঞ্জের বাস স্টান্ড, ঢাকার ধামরাই ও সাভারে পৃথক সাতটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। টুঙ্গিপাড়া থেকে সকাল ৯টায় রওনা হয়ে বেলা ১১টায় প্রথম ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন তিনি। এ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহর জন্য নৌকায় ভোট দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আওয়ামীলীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে। দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্বে অবস্থান নিতে হবে, তরুণ ও যুব সমাজকে শিক্ষিত, কর্মমুখি করে গড়ে তুলতে আবারও নৌকায় ভোট দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা-মাওয়া মহাসড়কের মালীগ্রাম কলাতলা নামক স্থানে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের অংশ হিসেবে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে, নইলে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন বাকী স্বপ্ন পুরণের কাজ আপনাদের হাতে। উন্নয়নের স্বার্থে কাজী জাফর উল্লাহকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি আহবান জানান।

উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, যুগ্ন সম্পাদক আঃ রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বি,এম মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম.বাহাউদ্দিন নাসিম, আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, ভাঙ্গা পৌর সভার মেয়র আবু ফয়েজ মো: প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার ফরিদপুর কোমরপুরে দ্বিতীয় সমাবেশে ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের দাবি করতে হবে না, আমি আগেই আপনাদের এলাকায় এসে কথা দিয়েছিলাম, ফরিদপুরকে বিভাগ করে দেবো। এর জন্য তো একটি প্রক্রিয়া আছে। একটা জেলা নিয়ে তো বিভাগ হয় না। সে জন্য অন্যান্য জেলার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা ক্ষমতায় এলে সেই প্রক্রিয়া শেষ করে ফরিদপুরকে বিভাগ করবো। সেজন্য নৌকাকে বিজয়ী করার আহবান জানান তিনি।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে একই দিনে দুপুরে তৃতীয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এলে দৌলদিয়া-পাটুরিয়ায় ২য় পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণ একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু কোনো দুর্নীতি পায়নি তারা। আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। আমরা আবার ক্ষতায় এলে প্রয়োজনে দৌলতদিয়ায় ২য় পদ্মাসেতু নির্মাণ করবো। এরই মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। তবে আগে ১ম পদ্মাসেতু নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয়টি নির্মাণ কাজ করা হবে। এ জন্য নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজবাড়ী-১ আসনে কাজী কেরামত আলী ও রাজবাড়ী-২ আসনে জিল্লুল হাকিমকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী -১ আসনের প্রার্থী কাজী কেরামত আলী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল হাকিম এমপি, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান সোহাগ, চিত্র নায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস প্রমুখ।

পাটুরিয়ায় ঘাটে দিনের চতুর্থ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো, মা বোনদের পাকিস্তানীদের হাতে তুলে দিয়েছিলো, দেশের বীর সন্তানদের হত্যা করতে সহযোগিতা করেছিলো, স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা করেছিলো এবং আইন করে বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েদিলো, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিলো, সেইসব যুদ্ধাপরাধী, খুনীর দোসরদের বিচারের হাত রক্ষা করে, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসীন করেছিলো, তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে, জাতিকে কলঙ্কিত করেছিলো সেই বিএনপি যেনো তারা কেউ যেনো ভোট না পায়, তারা যেনো আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। আপনারা কেবল নৌকায় ভোট দিলেই এদের প্রতিহত করা সম্ভব। শুধুমাত্র নৌকাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে।

মানিকগঞ্জে একটি আন্তর্জাতিকমানে স্টেডিয়াম ও বিশেষ ইকোনমিক জোন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানিকগঞ্জে দিনের পঞ্চম সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের মানিকগঞ্জে অনেক মানিক আছে। সেখান থেকে আমি ৩টি মানিক কুড়িয়ে নিয়েছি। তারা হলেন, এই অঞ্চলের নৌকার প্রার্থী ক্রিকেটার নাইমুর রহমান দুর্জয়, সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ এবং জাহিদ মালিক স্বপন। এই তিন মানিকের জন্য আপনাদের কাছে নৌকায় ভোট চাই।

আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তরুণ সমাজের জন্য আমরা আমাদের এবারের নির্বাচন উৎসর্গ করেছি। তরুণদের মেধা শক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে উন্নিত হবে । এরপর সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে ধামরাই ষষ্ঠ নির্বাচনী সমাবেশ এবং সন্ধ্যায় সাভাওে দিনের সর্বশেষ সপ্তম নির্বাচনী সমাবেশে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রাত ৮টা ২১মিনিটে ঢাকায় প্রধান বাসভবন গণভবনে পৌঁছান তিনি।