সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোতে সম্পূরক ভূমিকা রাখতে হবে

নিউজ ডেস্কঃ    অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান দেশের এনজিওগুলোর প্রতি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোতে সম্পূরক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষ আলোচনা সভায় ‘প্রান্তজনের অধিকার ও উন্নয়ন: সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা’ শিরোনামে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালনক শাহীন আনাম। মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ড. আতিউর বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়ন উদ্যোগে পরস্পরের সম্পূরক ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখাতে পেরেছে। গত এক দশকে সরকার সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করেছে এবং দেশের এনজিওগুলো এক্ষেত্রে অমূল্য ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, এনজিওগুলো বিশেষত জনবান্ধব নীতি প্রনয়ন, বিভিন্ন সেবা মানুষের কাছে পৌঁছানো, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা তৈরি, জেন্ডার বৈষম্য হ্রাস এবং আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর অবদান রেখেছে। ফল স্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও এনজিওদের কার্যক্রমগুলো প্রশংসিত হচ্ছে এবং অনুসরণ করা হচ্ছে।

তবে ড. আতিউরের মতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য থাকলেও ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক মানুষ বিপন্ন ও পশ্চাদপদ জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি বৈষম্য নিরসন আইনটি দ্রুত পাশ করিয়ে আনার সরাকরি সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই আইনটি মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে।

আগামী দিনে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ড. আতিউর বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বাড়ানো, যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা, বৈষম্য হ্রাসকরণ, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অতিদারিদ্র্য দূরীকরণের মতো বিষয়গুলোতে এনজিওদের সমর্থন ও সহায়তা সরকারের প্রয়োজন হবে।

এনজিওগুলোর দেশের ব্যক্তি খাতের সঙ্গে আরও বেশি মাত্রায় যৌথ উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন ড. আতিউর। তার মতে, এর ফলে ব্যক্তি খাতের সিএসআর কর্মকাণ্ডগুলো আরও কার্যকর হবে এবং তাদের সামাজিক ভিত্তিও মজবুত হবে।

সব শেষে তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বুঝায় না, সার্বিক উন্নয়নের জন্য মনমানসিকতা ও চিন্তা-ভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা দরকার।আর এক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনজিওরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।